
নতুন বছরের প্রথম প্রহর, চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ। সড়কজুড়ে চলছিল বৈশাখের আবাহন, রঙের আঁচড়ে ফুটে উঠছিল বাঙালির চিরায়ত আলপনা। সেই উৎসবের রঙে হঠাৎ করেই মিশে গেল তাজা রক্ত। চট্টগ্রামের কাপ্তাই সড়কে বৈশাখী আলপনা আঁকার সময় দ্রুতগামী এক পিকআপের ধাক্কায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারালেন মো. জুয়েল (৩৫) নামের এক যুবক।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কাপ্তাই সড়কের কমলার দিঘির পাড় এলাকায় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিহত জুয়েল নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পটিয়াপাড়া গ্রামের মৃত নুরুচ্ছাফার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভোরে সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের সঙ্গে মিলে উৎসবের আনন্দে সড়কে আলপনা আঁকছিলেন জুয়েল। ভোরের আলো ফোটার আগেই অসমাপ্ত আলপনার কাজ শেষ করার তাড়না ছিল তাদের মনে। কিন্তু কে জানত, এই আলপনাই হবে তার জীবনের শেষ কাজ! হঠাৎ তরমুজ বোঝাই একটি বেপরোয়া গতির পিকআপ ছুটে এসে কেড়ে নেয় সব আনন্দ। তীব্র ধাক্কায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন জুয়েল, মাথায় পান গুরুতর আঘাত।
রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান সঙ্গীরা। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চিরতরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই তরুণ।
জুয়েলের এই অকাল প্রস্থানে তার পরিবার, আপনজন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন বলেন, “জুয়েল বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সব সময় সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন ভূঁইয়া জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক পিকআপটিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বৈশাখের আনন্দ যেখানে সবার মাঝে হাসি ফোটানোর কথা, সেখানে জুয়েলের পরিবারে এখন কেবলই কান্নার রোল আর স্বজন হারানোর হাহাকার। কাপ্তাই সড়কের ওই জায়গায় হয়তো আলপনার রঙ কিছুদিন টিকে থাকবে, কিন্তু উৎসবের এই দিনে জুয়েলের রক্তে ভেজা রাজপথ স্থানীয়দের হৃদয়ে এক গভীর ও বিষাদময় ক্ষতের সৃষ্টি করে গেল। অসম্পূর্ণ থেকে গেল সড়কের আলপনা, অসম্পূর্ণ রয়ে গেল জুয়েলের জীবনের গল্পটাও।
