- চকরিয়ার হারবাং ব্রিকফিল্ড এলাকায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাহাড় কেটে মাটি লুটের পর সেই জায়গা দখলে নিয়ে চলছে অবৈধ স্থাপনা তৈরি।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড এলাকায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতাধীন বিশাল পাহাড় কেটে অন্তত লক্ষাধিক ঘনফুট মাটি লুটের অভিযোগ উঠেছে। মাটি লুটের পর সমতল করা ওই জায়গা বর্তমানে প্লট আকারে বিক্রি করা হচ্ছে এবং সেখানে নতুন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী বালু ও মাটিখেকো চক্র দিনরাত এক্সেভেটর দিয়ে এই পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে। পাহাড় কাটার কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের প্রবল আতঙ্ক বিরাজ করছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে। পরিবেশ বিপর্যয়ের এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
রোজার মাসের আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের হারবাং মৌজার বিএস ১৬৫১৩ দাগের আওতাধীন এই পাহাড় কাটা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় নাজেম উদ্দিন, আবদুল খালেক পুতু ও জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে এই মাটি লুট ও প্লট বাণিজ্য চলছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, হারবাং সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গার পাহাড় কেটে মাটি লুটের বিষয়টি তাদের কেউ জানায়নি। উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, বিষয়টি যেহেতু এখন জেনেছেন, তাই সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল পাঠানো হবে এবং চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হারবাং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. আবুল মনছুর জানান, খবর পেয়ে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে এবং তিনি নিজে রাত আটটা-নয়টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেছেন। তহসিলদার মো. আবুল মনছুর আরও জানান, জড়িতরা মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত তৎপর থাকায় পাহাড়টি রক্ষা করা যায়নি। তবে জড়িত হিসেবে নাজেম উদ্দিন, আবদুল খালেক পুতু ও জসীম উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন মো. আবুল মনছুর।
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব জানান, খবর পেয়ে হারবাং ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আবুল মনছুরকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার রূপায়ন দেব আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার দেশের বাইরে ছিলেন; তিনি কর্মস্থলে ফেরার পর তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি সেমিনারে বিদেশ সফর শেষে কর্মস্থলে ফেরার পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, পাহাড় কেটে মাটি লুট এবং অবৈধ স্থাপনা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ইউএনও শাহীন দেলোয়ার নিশ্চিত করেন যে, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সরকারি জায়গা উদ্ধার এবং জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠিন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাহাড় কেটে মাটি লুট ও সরকারি জায়গা প্লট হিসেবে বিক্রির বিষয়ে অভিযুক্ত নাজেম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নাজেম উদ্দিন ফোন রিসিভ করেননি। তবে আরেক অভিযুক্ত আবদুল খালেক পুতু দাবি করেন, এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আবদুল খালেক পুতু কোনোভাবেই জড়িত নন এবং নিছক হয়রানির উদ্দেশ্যেই কেউ তার নাম জড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে উত্তর হারবাং এলাকায় এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমি কাটার সঙ্গে জড়িত। সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ আরও বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই তারা বেপরোয়া হয়ে সরকারি পাহাড় সাবাড় করেছে এবং অবৈধ প্লট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

