চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু প্রাথমিক মেধার লড়াই


দীর্ঘ কয়েক বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে খুদে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে থমকে থাকা এই মেধা যাচাইয়ের উৎসব—‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫’ শুরু হয়েছে এক নতুন উদ্যমে। ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একযোগে অংশ নিচ্ছে এই প্রতিযোগিতায়, যা শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তৈরি করেছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৪০টি—সব মিলিয়ে মোট ৫১টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষা দিচ্ছে ৩১ হাজার ৯৮৩ জন পরীক্ষার্থী। ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মেধা যাচাইয়ের উৎসব চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। পরীক্ষার হলে খুদে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ভবিষ্যৎ জয়ের উজ্জ্বল স্বপ্ন আর আনন্দঘন এক পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) পরীক্ষার প্রথম দিনে চট্টগ্রামের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণে নামেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (শিক্ষা) আফরিন ফারজানা পিংকি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহাম্মদ, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রবিউল হোসেন এবং কোতোয়ালি থানা শিক্ষা অফিসার খন্দকার সখিনা বেগম।

জেলা প্রশাসক যে কেন্দ্রটি (মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ) পরিদর্শন করেন, সেখানে মোট ৮৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম দিনে উপস্থিত ছিল ৫৭৪ জন। কেন্দ্রের সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বর্তমান সরকারের শিক্ষাবান্ধব নীতি ও আধুনিক পরীক্ষাব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা যাচাই এবং তাদের যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদানে এই ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” চমৎকার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। এর মধ্য দিয়ে দেশের আগামী দিনের মেধাবীদের তুলে আনার পথ আরও একবার সুগম হলো।