
দেশে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অবৈধ মজুতদারদের কারণে সৃষ্টি হওয়া তেলের এই ‘অস্বাভাবিক’ চাহিদাই চলমান সংকটের অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা জানান।
অবৈধভাবে তেল মজুতের বিষয়টি তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আপনারা সকলে বোঝেন যে, এটা অস্বাভাবিক চাহিদা! অস্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা আসলে একটি অসম্ভব ব্যাপার। প্রতিনিয়ত আমরা দেখছি হাজার হাজার লিটার তেল অবৈধ মজুতদারদের কাছে উদ্ধার হচ্ছে।”
গ্রাহক পর্যায়ের এই সংকট উত্তরণে সবার দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর দেন তিনি। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকে দায়িত্বশীল আচরণ করলে এই সমস্যার রাতারাতি সমাধান সম্ভব।
জ্বালানির মজুত নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই আশ্বস্ত করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে এবং গর্বের সাথে বলতে পারি— বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি আমাদের মজুত আছে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েল মজুত থাকার সাম্প্রতিক খবরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশেও ছয় সপ্তাহ সমপরিমাণ জেট ফুয়েল রয়েছে।”
আগামী মাসগুলোর চাহিদা মেটানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এপ্রিল ও মে মাসের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বর্তমানে সরবরাহ লাইনে নিশ্চিত অবস্থায় আছে। এই দুই মাসের চাহিদা পূরণের পূর্ণ সক্ষমতা সরকারের রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন মূলত জুন মাসের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে এবং সরকারের আরও কিছু পরিকল্পনা হাতে রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জ্বালানি সংগ্রহের দীর্ঘ লাইন কমে আসবে বলে তিনি জোরালো আশা ব্যক্ত করেন।
