
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালিত কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাঘগুজারা রাবার ড্যাম উপচে মাতামুহুরী নদীর উজানে অনায়াসে ঢুকছে সামুদ্রিক লবণ পানি। বেশ কয়েকদিন ধরে এই সামুদ্রিক লবণ পানি ঢুকে নদী সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে রোপিত বোরো ধান ও রকমারি সবজি চাষে মিঠাপানির সেচ সুবিধায় তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষেতের ফসল ঘরে তোলার ঠিক সপ্তাহ দুয়েক আগে লবণ পানির কারণে মিঠাপানির সেচ সুবিধা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাব্য প্রেক্ষাপটে শত শত কৃষক চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ভুগছেন।
মাতামুহুরী নদীতে সামুদ্রিক লবণ পানি ঢোকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের (বাঘগুজারা রাবার ড্যাম এলাকায় নিয়োজিত) দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মিঠুন চৌধুরী। রোববার দুপুরে মিঠুন চৌধুরী জানান, আগের দিন রাবার ড্যামের পাশের কয়েকজন কৃষক নদীতে সামুদ্রিক লবণ পানি ঢোকার কথা জানিয়েছেন। জমিতে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকরা বুঝতে পারেন নদীর পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে। রোববার সকালেও দুইজন কৃষক নদীতে লোনাপানির উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন বলে মিঠুন চৌধুরী উল্লেখ করেন। রাবার ড্যাম সংলগ্ন নদীতে গিয়ে লবণ পানি ঢোকার বিষয়টি বিস্তারিত নিশ্চিত হয়ে চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসারকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় ভুক্তভোগী অনেক কৃষক জানিয়েছেন, মৌসুম শেষ হলেও এখনো অধিকাংশ এলাকায় জমির বোরো ধানে সবেমাত্র তোড়-দানা এসেছে। এসব জমির ধান কাটতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিনের বেশি সময় লাগবে। এর পাশাপাশি সবজি ক্ষেতেও প্রতিনিয়ত সেচ দিতে হচ্ছে। এসব কারণে রাবার ড্যাম দুটির মাধ্যমে মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানির উৎস আরও কিছুদিন ধরে রাখতে হবে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ১৭ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জমিতে রকমারি সবজি চাষ হয়েছে। মো. আরিফুল ইসলাম আরও জানান, মৌসুম এখন শেষ পর্যায়ে এবং বেশিরভাগ এলাকায় বোরো ধান কাটা ঘনিয়ে এসেছে। তবে অনেক এলাকায় এখনো ধানের তোড়-দানা বের হচ্ছে এবং কৃষকরা নতুন সবজি ফলিয়েছেন, যেসব জমিতে এখনো সেচ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
জানা গেছে, প্রতি বছর চকরিয়া উপজেলার উল্লেখিত পরিমাণ জমিতে নিরবচ্ছিন্ন চাষাবাদ করতে কৃষকেরা সেচ সুবিধা হিসেবে মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানির ওপর নির্ভরশীল। সেই আলোকে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিংয়ে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে মাতামুহুরী নদীতে স্থাপিত রাবার ড্যাম দুটি ফোলানোর মাধ্যমে কৃষকের মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে আসছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (চকরিয়া উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব) সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাতামুহুরী নদীতে স্থাপিত বাঘগুজারা ও পালাকাটা পয়েন্টের রাবার ড্যাম দুটি নদীর মিঠাপানির উৎস ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর নভেম্বর মাসে ফোলানো হয়। এরপর কৃষকের চাষাবাদ (বিশেষ করে বোরো ধান চাষ) শেষ হলে মার্চ মাসের শেষদিকে অথবা এপ্রিল মাসের শুরুতে রাবার ড্যাম ডাউন করে দেওয়া হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কিছু কিছু এলাকায় এখনো চাষাবাদ রয়ে যাওয়ায় এ বছর এখনো রাবার ড্যাম দুটি ডাউন করা হয়নি। যেহেতু ড্যাম ডাউন করা হয়নি, তাই বাঘগুজারা রাবার ড্যাম উপচে মাতামুহুরী নদীতে সামুদ্রিক লবণ পানি ঢোকার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, বাঘগুজারা রাবার ড্যাম উপচে সামুদ্রিক লবণ পানি মাতামুহুরী নদীতে ঢুকে মিশে গেলে চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে শাহীন দেলোয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
