স্টারলিংক সংযোগে ভোগান্তি: টাকা ফেরতের নোটিশ পেলেন এনসিপি নেতা


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভায় স্থাপিত স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ প্রত্যাশিতভাবে কাজ না করায় সংশ্লিষ্ট অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে পৌর প্রশাসন। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পৌর কার্যালয়ে স্টারলিংক ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘হিল ট্র্যাক্টস টেক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তহীদুল ইসলাম মাসুমের অনুকূলে চেকের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। মো. তহীদুল ইসলাম মাসুম সাতকানিয়া উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংযোগ চালুর পর থেকেই নানা ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ। পৌর প্রশাসনের দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সংযোগ চালুর দ্বিতীয় দিন থেকেই বারবার বিচ্ছিন্নতা, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং কার্যত সংযোগ না থাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এতে পৌরসভার দৈনন্দিন দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। পরে বাধ্য হয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সংযোগের যন্ত্রপাতি অপসারণ করে তিন দিনের মধ্যে মো. তহীদুল ইসলাম মাসুমকে ৯০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নোটিশে জানানো হয়েছে।

পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অধিকাংশ নাগরিক সেবা যেমন জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ প্রদান, হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়, অনলাইন আবেদন ও সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ ইন্টারনেটনির্ভর। ফলে সংযোগে সমস্যার কারণে সেবাপ্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।

এ বিষয়ে মো. তহীদুল ইসলাম মাসুম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শেই পৌরসভায় ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী গিয়ে স্টারলিংক সংযোগ স্থাপন করেন। তবে তাঁদের না জানিয়ে ডিভাইস এক স্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় সংযোগে জটিলতা তৈরি হয় এবং বিদেশ থেকে সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে মো. তহীদুল ইসলাম মাসুম দাবি করেন।

মো. তহীদুল ইসলাম মাসুম আরও জানান, পরে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়। এই প্রকল্পে তাঁর মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার টাকা, যদিও তিনি পেয়েছেন ৯০ হাজার টাকা। ক্ষতিপূরণসহ টাকা ফেরতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনও হাতে পাননি, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন বলে জানান।

সার্বিক বিষয়ে সাতকানিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখতে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত মানের সেবা পাওয়া যায়নি। বারবার সংযোগে সমস্যা হওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভার অর্থ জনগণের অর্থ উল্লেখ করে খোন্দকার মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী সেবা দিতে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

বর্তমানে বিকল্প সংযোগের মাধ্যমে পৌরসভার অনলাইন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং নাগরিক সেবা যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান নিশ্চিত করেন।