
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে অবৈধ পাহাড় কাটা বিরোধী অভিযানে জব্দ করা একটি পে-লোডার (ভেকু) সরাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় চালক বাবুল হোসেনের (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনকে দায়ী করে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও পরিবহন সমিতির নেতারা। এই মানববন্ধনে নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) মানিকছড়ি উপজেলা চত্বরে স্থানীয় জনসাধারণ ও পরিবহন সমিতির ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহত বাবুল হোসেনের স্ত্রী, সন্তান, সহকর্মী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টগ্রামের যুগ্ম-সম্পাদক হাসান মাহমুদ, মাসুদ্দুজ্জামান, শরিফুল ইসলাম জুয়েল, মানিকছড়ি উপজেলা জিপ ও মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইউনুস কোম্পানি এবং ট্রাক চালক সমিতির আবুল হাসেম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন একজন অদক্ষ চালককে দিয়ে জোরপূর্বক পে-লোডারটি সরাতে বাধ্য করে, যার ফলে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। প্রশাসন তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে বদলি বা প্রত্যাহার না করা হলে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চালক বাবুল হোসেন মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক প্রেস বার্তায় জানান, গত ১২ এপ্রিল মানিকছড়ির বাটনাতলী ইউনিয়নের খলিপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত একটি পে-লোডার জব্দ করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল চালক পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় দক্ষ চালক বাবুল হোসেনের সহায়তা নেয় কর্তৃপক্ষ। এর আগেও তিনি বিভিন্ন অভিযানে প্রশাসনকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছিলেন।
ইউএনও আরও জানান, জব্দকৃত যানটি চালিয়ে থানায় নিয়ে আসার পথে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং চালক বাবুল হোসেন গুরুতর আহত হন। উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মানিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করে। সেখানে আইসিইউতে অপারেশনসহ নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় গত শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত চালকের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা হয়েছে জানিয়ে ইউএনও বলেন, এ পর্যন্ত চিকিৎসায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
