পটিয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত দুই সহোদর হাসপাতালে

চট্টগ্রামের পটিয়ায় আবুল কাশেম (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গুরুতর জখম হওয়ার ছয় দিনের মাথায় সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আবুল কাশেম পটিয়া পৌরসদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আয়ুব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর আরও দুই সহোদর ভাই আবুল কালাম ও আবুল মুছা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আবুল কালামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার পটিয়া থানায় মোহাম্মদ ইকবালকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইকবাল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কাশেম পটিয়া পৌরসদরের স্টেশন রোড এলাকায় সুপারির ব্যবসা করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পৌরসদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছিপাতলি এলাকায়। পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

গত ১৫ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আবুল কাশেম তাঁর দুই ভাই আবুল কালাম ও আবুল মুছাকে নিয়ে নিজেদের মৌরশী জায়গায় সংস্কারকাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইকবালসহ কয়েকজন মিলে আবুল কাশেমের মাথায় ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁর দুই ভাই আবুল কালাম ও আবুল মুছাকেও আঘাত করা হয়, ফলে তাঁরাও মারাত্মকভাবে আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় দিনের মাথায় আবুল কাশেমের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, ২০২১ সালে পটিয়া পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে স্থানীয় কাউন্সিলর আবদুল মান্নানের ভাই মোহাম্মদ আবদুল সওদাগরকে হত্যা মামলায় মোহাম্মদ ইকবালসহ অন্যরা অভিযুক্ত ছিল। ওই মামলায় জামিনে এসে তারা আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

নিহতের ভাই আবুল ফয়েজ বলেন, তাঁদের মৌরশী জায়গায় কাজ করার সময় পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাইদের ওপর হামলা চালায় মোহাম্মদ ইকবালসহ তার সহযোগীরা। তিনি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইকবাল এলাকায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী আবুল কাশেম স্টেশন রোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। মফিজুর রহমান এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক জানান, পূর্বে দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।