নাহিদ রানার ফাইফার ও তানজিদ-শান্তর জুটিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়


প্রথম ম্যাচ হেরে খাদের কিনারায় থাকা বাংলাদেশ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মিরাজের দল। নাহিদ রানার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার এবং ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংসে ৮৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। এই দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরল। আগামী বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি তাই রূপ নিয়েছে অলিখিত ফাইনালে।

এর আগে মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কিউই ব্যাটারদের চেপে ধরেন নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামরা। আগুনঝরা বোলিংয়ে নাহিদ রানা একাই ধসিয়ে দেন সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। নিজের শেষ ওভারে জেইডেন লেনক্সকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন এই গতি তারকা। মাত্র ৩২ রানের বিনিময়ে তিনি তুলে নেন ৫ উইকেট। একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরির পথে থাকা কিউই ওপেনার নিক কেলিকে ৮৩ রানে থামান শরিফুল। শেষ পর্যন্ত ৪৮ দশমিক ৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। রানার ৫ উইকেটের পাশাপাশি শরিফুল দুটি এবং তাসকিন, সৌম্য ও রিশাদ একটি করে উইকেট নেন।

১৯৯ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই নাথান স্মিথের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। এরপর একাদশে ফেরা সৌম্য সরকার দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করলেও উইলিয়াম ও’রোকের বলে অহেতুক শট খেলতে গিয়ে ১১ বলে ৮ রান করে ক্যাচ দিয়ে বসেন। মাত্র ২১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।

শুরুর সেই চাপ দারুণভাবে সামাল দেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রতি ওভারে বাউন্ডারি আদায় করে তাঁরা দলের রানের চাকা সচল রাখেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ৩৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ। শান্তর সঙ্গে ১২০ রানের দারুণ এক শতরানের জুটি গড়েন তিনি। তবে সেঞ্চুরির পথে থাকা তানজিদ ব্যক্তিগত ৭৬ রানে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান।

অন্যদিকে টানা ১৩ ইনিংস পর ওয়ানডেতে কাঙ্ক্ষিত ফিফটির দেখা পান নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭১ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরপরই ক্র্যাম্পের কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর নিজের শততম ওয়ানডে খেলতে নামা লিটন দাস ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি; ১১ বলে মাত্র ৭ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। লিটনের বিদায়ের পর তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ দলের জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা অনায়াসেই সারেন। হৃদয় ৩১ বলে ৩০ এবং মিরাজ ২৫ বলে ৮ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।