বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: ভোটগ্রহণ স্থগিত, জানালা দিয়ে ব্যালট পাচারের অভিযোগ


চট্টগ্রামের বাঁশখালী আদালত ভবনে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে দিনভর উত্তেজনা, পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত ও হট্টগোলের পর ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে গেছে।

সোমবার দুপুর ১২টায় ভোট শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় এ ঘটনা ঘটে। শেষ পর্যন্ত কোনো ফলাফল ঘোষণা ছাড়াই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্র ত্যাগ করেন।

এ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা কর্মকর্তারা গোপনে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর কাছে জানালা দিয়ে ব্যালট পেপারের ফাইল হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ২০টির বেশি ভোট গ্রহণ করা হয়। এরপরই আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে তীব্র হট্টগোলে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টা পর্যন্ত আর ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, দুপুর ১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটকক্ষে অবরুদ্ধ ছিলেন। এ সময় তারা গোপনে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর কাছে জানালা দিয়ে ব্যালট পেপারের ফাইল তুলে দেন এবং পরে কক্ষ ত্যাগ করেন।

নির্বাচনকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং আইনজীবীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল, যা পুরো পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে।

এর আগে নির্বাচনের আগের দিন রোববার এডহক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন মাতব্বার নূরীর স্বাক্ষরে এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনসহ সব কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীল পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। পরস্পরবিরোধী এমন ঘোষণায় আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২০ জানুয়ারি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণে এ নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়ে। তবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দিনে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবু নাছের ও অ্যাডভোকেট এ.আর.এম তাকছিমুল গনি ইমন প্রার্থী হন।

আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আবু নাছেরকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি ঘোষণা করা হলে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে বিভক্তি দেখা দেয়; একপক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে এবং অন্যপক্ষ স্থগিতের পক্ষে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় এডহক কমিটি বৈঠক করে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোটগ্রহণ শুরু হলেও দ্রুত তা বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়।

বিকাল ৫টার দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ.আর.এম তাকছিমুল গনি ইমন সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। মব সৃষ্টি করে যে ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, তার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আমি এবং অন্যান্য প্রার্থীরা এ নির্বাচন মানি না।”

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু নাছের বলেন, “যে ভোটগ্রহণ হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে ফলাফল দেওয়া হবে, তা আমি মেনে নেব।”

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীলসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে তারা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে স্থান ত্যাগ করেন।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার দিকে সমর্থকদের মধ্যে প্রধান সড়কে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।