চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোকসভায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের চেয়ে একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের শোডাউন ও নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
নগরীর লালদিঘী মাঠে আয়োজিত শোকসভায় চিরাচরিত নিয়ম ও রেওয়াজ ভেঙে অনুষ্ঠানের প্রায় পুরো সময় ধরে মিছিল, হাততালি ও অনুসারী নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করতে দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। অনুষ্ঠানের প্রায় সব বক্তা এই দৃশ্য দেখে বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মাইকে বার বার বলছিলেন, আপনারা ভুলে যাবেন না এটা শোকসভা। শোকসভায় স্লোগান কিংবা হাততালি নয়, মৌনতা প্রদর্শনই নিয়ম। তাতেই আমাদের প্রয়াত নেতার শ্রদ্ধা প্রদর্শিত হবে।
ওবায়দুল কাদের, মাহবুবুল আলম হানিফ, এনামুল হক শামীম থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতারাও বারবার অনুরোধ করছিলেন, এভাবে শোকসভা হয় না। আপনারা মহিউদ্দিন ভাইকে যদি ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন তাহলে স্লোগান বন্ধ করুন, ব্যানার গুটিয়ে ফেলুন। এরপরও থেমে থেমে চলে স্লোগান আর হাততালির মহড়া।
একপর্যায়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। বলেন, এই ছেলে তোমরা কী শুরু করেছো, খুব বেড়ে গেছো, চুপ করো।
এরপর কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, আবার শুরু হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের শক্তিপ্রদর্শনের মহড়া। ফলে ১২ মিনিটের বক্তৃতার পুরোটা সময় বিচ্ছৃঙ্খলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয় মাহবুবুল আলম হানিফকে।
এই অবস্থা দেখে রাস্তার ধারে দাঁড়ানো মাঝবয়সী এক লোক বলে উঠলেন, শোকসভা নয়, এ যেন নেতাকর্মীদের প্রদর্শন সভা!
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের স্ব স্ব ছবি এবং তাদের অনুসরণীয় নেতার ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনে সকাল থেকে ছেয়ে যায় লালদিঘীর শোকসভাস্থল ও এর আশপাশের এলাকা।
