যুক্তরাজ্যের ‘নিশ্চিত ভিসা’ বা ‘চাকরি’র প্রতারণা থেকে সাবধান করল হাইকমিশন


যুক্তরাজ্যে ‘নিশ্চিত ভিসা’ কিংবা ‘নিশ্চিত চাকরি’র প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার বিষয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশন।

মঙ্গলবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় এই সতর্কতা জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়ে ভুয়া দাবির ঘটনা বাড়ছে। নিশ্চিত ভিসা বা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকরা অনেককে বিভ্রান্ত করছে। এ ধরনের প্রতারণার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাজ্যের ভিসা সংক্রান্ত কোনো প্রতারণার বিষয়ে সন্দেহ হলে পরিচয় গোপন রেখে নির্দিষ্ট ইমেইলে (BangladeshVisaFraud@fcdo.gov.uk) অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। ভিসা আবেদনের গাইডলাইন সম্পর্কে জানতে সবসময় যুক্তরাজ্যের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.gov.uk) থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে হাইকমিশন।

এর আগে গত বছরের শেষে ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য কেউ ভিসা জালিয়াতি বা অবৈধ পথ অবলম্বন করলে তাকে ১০ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। জাল ভিসার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এছাড়া সম্প্রতি কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ১৩টি পশ্চিমা দেশের হাইকমিশন এবং দূতাবাস গত ৮ এপ্রিল যৌথভাবে ভিসা প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়ে একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করে। পারমিট ও কনস্যুলার সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া এবং কাগজপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করতে ওই বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে, ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাজ্যে চাকরি বা নিশ্চিত ভিসার কথা বলে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। মানবপাচার চক্র এসব দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশি তরুণদের নেপালে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। চক্রটি গন্তব্যে পৌঁছে টাকা পরিশোধের কথা বলে অভিবাসনে আগ্রহী তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে।

এ ছাড়া বিদেশে ভালো কাজের কথা বলে অনেককে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে এবং ইউরোপ নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নিপীড়ন করা হচ্ছে। তাই বিদেশে যাওয়ার যেকোনো বিষয় গোপন না করে সবার সঙ্গে কথা বলে যাচাই-বাছাই করা জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।