পটিয়ায় শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্তের স্ত্রী গ্রেপ্তার


চট্টগ্রামের পটিয়ায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে আইসক্রিমের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার নুর আক্তার (৩২) প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমানের স্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার পটিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে। তাদের পাশের ঘরেই থাকতেন সোলাইমান (৪২)। গত ১৭ মার্চ শিশুটির মা-বাবা কাজের জন্য ঘরের বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ১০ টাকা দিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন সোলাইমান।

ঘটনার দুই দিন পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন সোলাইমানের স্ত্রী নুর আক্তার। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি চিকিৎসার জন্য এক হাজার টাকা দেন। কিন্তু ঈদের পর বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে ঝগড়ার এক পর্যায়ে শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি খুলে বলে।

গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পুনরায় বিরোধ সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত সোলাইমান শিশুটির মাকে মারধরের চেষ্টা করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। পরে শিশুটির মা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন।

পুলিশের পরামর্শে সোমবার দুপুরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, তিনি তার মেয়ের ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক ক্য লাহ্‌ চিং মারমা জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। ভুক্তভোগী শিশু বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।