
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর বসতে যাচ্ছে আগামী ২৫ এপ্রিল (শনিবার)। নগরীর লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতা ঘিরে আশপাশের এলাকায় ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা চলবে।
ইতিমধ্যে মেলার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়র জানান, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেছিলেন। যুগের পর যুগ ধরে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলা কমিটির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে লালদীঘি মোড়কে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে, ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান সংলগ্ন মোড়কে ‘আবদুল জব্বার চত্বর’ হিসেবে নামকরণ করেছে চসিক। সেখানে বলীখেলার প্রবর্তক আবদুল জব্বার সওদাগরের নামে একটি স্মারক টেরাকোটা শিল্পকর্ম স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চত্বরের উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বলীখেলার আসরে উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারের মেলার সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরের মধ্যে শেষ হবে।
মেলা ও বলীখেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিএমপি ও র্যাবের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন থাকবে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস।
আয়োজকরা জানান, লালদীঘি মাঠে বলীখেলার জন্য মূল রিং স্থাপন করা হবে। এছাড়া কোতোয়ালি মোড়, আন্দরকিল্লা, সিনেমা প্যালেস ও বদরপাতি এলাকা ঘিরে বসবে বৈশাখী মেলার শতাধিক স্টল, যেখানে পুতুল-খেলনা, হস্তশিল্প, পোশাক থেকে শুরু করে নানা ধরনের দেশীয় সামগ্রী পাওয়া যাবে।
বলীখেলার ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে কাজ করছেন জানিয়ে আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান এবং চট্টগ্রামে একটি বলীখেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
