
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে আনা গরুর ট্রাক আটকে কেন্দ্র করে হামলায় গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ বছর বয়সী শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় মারা যান। তিনি করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তার চাচা নাজমুল হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়ের মৃত্যুর খবরে কয়লা বাজার এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কয়লা এলাকায় বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন এবং অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলালের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উপজেলার কয়লা বাজারে অবৈধভাবে আসা একটি গরুর ট্রাক আটক করেন স্থানীয়রা। জানা যায়, বর্দ্ধভবানী এলাকার বিএনপি নেতা মো. টিপু ও আবদুর রহিমের ছত্রচ্ছায়ায় গরুগুলো নিয়ে আসছিলেন মো. টিপুর ভাই সুমন। তখন ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় যুবদল নেতা সবুজ ও তার সহযোগীরা। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সুমনকে মারধর করেন সবুজ ও তার লোকজন। এ সময় আবদুর রহিম কয়লা এলাকার বিএনপি নেতা আবদুল আলিমকে ফোন দিয়ে গরুর গাড়ি আটকে রাখার বিষয়টি দেখতে বলেন। আবদুল আলিম ব্যস্ততার কারণে যেতে অপারগতা জানালে আবদুর রহিম তাকে ছেলের মাধ্যমে হলেও বিষয়টি দেখতে বলেন। তখন আবদুল আলিম তার ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় ও আনোয়ার হোসেন নামের আরেকজনকে কয়লা বাজারে পাঠান। এর ১৫ মিনিট পরই আবদুল আলিমের কাছে খবর আসে, শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় ও আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা হয়েছে। পরে তিনি দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়ের বাবা আবদুল আলিম বলেন, অবৈধ গরু ব্যবসায়ী মো. টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়কে হত্যা করেছে। আবদুল আলিম জানান, ওইদিন রাতে মো. টিপুর সহযোগী আবদুর রহিম তাকে বারবার ফোন দিয়ে তাদের গরুর ট্রাক কে আটকেছে তা দেখতে বলেন। সারাদিন বাইরে থাকায় ক্লান্ত থাকার কথা জানালে আবদুর রহিম ছেলেকে পাঠাতে বলেন। এরপর আনোয়ার হোসেনসহ ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়কে পাঠালে ১৫ মিনিট পরই হামলার খবর আসে। আবদুল আলিম জানান, ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও পাঁচ দিন পর তার মৃত্যু হয়।
তবে অবৈধ গরুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. টিপু। তিনি দাবি করেন, ওইদিন রাতে তার ভাই সুমনের মাথা ফাটিয়ে দেন সবুজ ও তার লোকজন। শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়ের ওপর হামলার বিষয়ে মো. টিপু বলেন, তার ওপর কারা হামলা করেছে, তা তিনি জানেন না।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, নির্মম সন্ত্রাসী হামলায় তিনি তার দুঃসময়ের রাজপথের সহযোদ্ধা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়কে হারিয়েছেন। জোরারগঞ্জ থানা প্রশাসনের প্রতি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান সরোয়ার হোসেন রুবেল।
সার্বিক বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, সংঘর্ষে আহত একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়ের বাবা আবদুল আলিম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে বলে কাজী নাজমুল হক নিশ্চিত করেন। ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর খবরে কয়লা এলাকায় কিছু লোক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করলেও খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলেও জানান ওসি কাজী নাজমুল হক।
