পটিয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪টি গরু ও নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা লুট


চট্টগ্রামের পটিয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪টি গরু ও নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। লুট হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনসা এলাকায় মুহাম্মদ নুরুল আলমের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মুহাম্মদ নুরুল আলম পটিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুহাম্মদ নুরুল আলমের গোয়ালঘরটি বসতঘরের পাশে হওয়ায় তিনি সেখানেই রাতযাপন করতেন। গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি মুখোশধারী দল গোয়ালঘরের দরজার লোহার শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে মুহাম্মদ নুরুল আলমকে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর ডাকাতরা বসতঘরে ঢুকে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি গোয়ালঘর থেকে লাল বর্ণের ৪টি ষাঁড় গরুও লুট করে তারা।

ভুক্তভোগী মুহাম্মদ নুরুল আলম জানান, ডাকাতদের কাছে বন্দুক, পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। প্রথমে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে ও তার স্ত্রীকে একটি কক্ষে বেঁধে রাখে ডাকাতরা। এরপর তারা গরু ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। মুহাম্মদ নুরুল আলম আরও জানান, নগদ টাকাগুলো মূলত গরু ও মাছ বিক্রির অর্থ এবং এক স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া পাওনা টাকা ছিল। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুর ব্যবসা ও ঘর মেরামতের জন্য তিনি টাকাগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব মনু মেম্বার জানান, খবর পেয়ে রাতেই তিনি বাড়ি থেকে বের হন এবং আশপাশের অনেকের ঘরে গরু থাকায় সবাইকে জাগিয়ে দেন। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী মুহাম্মদ নুরুল আলমের মূল বাড়ি চকরিয়ায়। তিনি পটিয়ায় ফুলকলি ফ্যাক্টরিতে সেলসম্যানের চাকরি করেন এবং পাশাপাশি গরু লালন-পালন করেন। সম্প্রতি এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে আব্দুল মোতালেব মনু মেম্বার জানান, এ ঘটনায় স্থানীয়দের পরামর্শেই ভুক্তভোগী মুহাম্মদ নুরুল আলম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে কেলিশহর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করে স্বর্ণসহ ২০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও ভাটিখাইন এলাকার করল গ্রাম থেকে আল-মারুয়া খামারের দুটি মহিষ, পৌর সদরের বাকখালী এলাকা থেকে গাজী মামুনের তিনটি গরু এবং নাইখাইন গ্রামের মহিউদ্দিন টিপুর তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।