
আগের সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে অনেক বেশি রাজনীতিকীকরণ করার ফলে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ‘খালি হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিগত আওয়ামী শাসনামল থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালও খুব বেশি ভালো ছিল না বলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন। নির্বাচিত বর্তমান সরকারের আমলে বিগত সময়ের পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে সরে এসে অর্থনীতির গণতান্ত্রিকায়নের দিকে ফেরাতে কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার বিকালে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানও উপস্থিত থেকে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আর্থিক খাতে যে বিশৃঙ্খলাগুলো হয়েছে, তা অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণের ফল এবং এর কারণেই ব্যাংকগুলো আজ খালি হয়ে গেছে। শেয়ার বাজার লুটপাট করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এমন একটি জায়গা থেকে ফিরে আসতে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে রেজুলেশনের প্রয়োজন রয়েছে। ব্যাংক ও বেসরকারি খাত আন্ডার ক্যাপিটালাইজড হয়ে গেছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীদের ৪০ শতাংশ কারেন্সি ডেপ্রিসিয়েশন ও ১৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে পুঁজি হারিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অনেক লোক চাকরি হারাচ্ছেন এবং শিল্পগুলোকে রি-ক্যাপিটালাইজ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সব খাতকে সরকারি তহবিল দিয়ে রি-ক্যাপিটালাইজ করা সম্ভব নয় জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ডিক্টেটোরিয়াল রেজিম এবং গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে যে অর্থনীতি পাওয়া গেছে, তার কোনোটিই খুব ভালো ছিল না। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশাল ঘাটতি মেটাতে গিয়ে ফিসকাল সেক্টরেও স্পেস কমে গেছে বলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন। দেশের অর্থনীতি কিছু অলিগার্কের হাতে চলে গিয়েছিল জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে অর্থনীতির গণতান্ত্রিকায়ন জরুরি। প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড দিচ্ছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাড়াতে কাজ করছে, যার প্রতিফলন আগামী অর্থবছরেই দেখা যাবে বলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান।
একই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, বেসরকারি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নতুন সরকার কর্তৃক ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাপানোর যে তথ্য দিয়েছে, তা কোনোভাবেই সত্য নয়। মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সরকারের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট আছে, যেখান থেকে সরকার টাকা নেয় এবং দেয়। এখানে ১২ হাজার কোটি টাকার লিমিট রয়েছে এবং প্রয়োজনে ওভার ড্রাফট করা হয়।
মো. মোস্তাকুর রহমান আরও জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন ব্যালেন্স ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা ২২ এপ্রিল কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি একটি স্বাভাবিক ট্রানজেকশন প্রক্রিয়া এবং টাকা ছাপিয়ে আবার পুড়িয়ে ফেলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে মো. মোস্তাকুর রহমান নিশ্চিত করেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও মো. মোস্তাকুর রহমানের কথার সূত্র ধরে জানান, সরকার এমনভাবে কাজ করছে যাতে প্রাইভেট সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং টাকা ছাপিয়ে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করতে না হয়।
