পেকুয়ায় জেলেদের চাল বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউপি সদস্য


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে নিবন্ধনকৃত জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তার আওতায় বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সাদেকা বেগমের বিরুদ্ধে ৩৯১ জন জেলের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে মোট ৭৮ হাজার ২০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য সাদেকা বেগমের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এমদাদুল হক শরীফের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গত ২২ এপ্রিল শফির আহমদ নামের একজন উপকারভোগী বাদী হয়ে প্রশাসনের দপ্তরে এই অভিযোগ দায়ের করেন। শফির আহমদ রাজাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং একজন তালিকাভুক্ত কার্ডধারী জেলে। অভিযোগে শফির আহমদ উল্লেখ করেন, মাছের প্রজনন মৌসুমে সাগর ও নদীতে মৎস্য আহরণে মৎস্য অধিদপ্তরের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারির পর উপকূলের নিবন্ধনকৃত জেলেদের জীবনযাপনের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তার আওতায় সরকার চাল বরাদ্দ দেয়।

গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদে এই চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ চাল বিতরণের সময় নারী ইউপি সদস্য সাদেকা বেগম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৯১ জন জেলের কাছ থেকে খরচের কথা বলে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে মোট ৭৮ হাজার ২০০ টাকা আদায় করেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইউপি সদস্য সাদেকা বেগম তার নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে ভুক্তভোগী শফির আহমদ ও অন্যান্য জেলেরা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় উপকারভোগীরা জানান, একই দিনে ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চাল বিতরণ করা হলেও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। এতে সাদেকা বেগমের বৈষম্য ও অনিয়মের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে শফির আহমদসহ অন্য জেলেরা দাবি করেন। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ৬৫ দিনের সাগর নিষেধাজ্ঞার সময় উপকূলীয় জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করে। এ সময়ে সরকার প্রণোদনা হিসেবে সামান্য ৭৭ কেজি করে চাল দিলেও সেই চাল পেতে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাদেকা বেগমকে ২০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। শফির আহমদ ও অন্যান্য জেলেরা এ ধরনের হয়রানি ও জুলুম থেকে মুক্তি চান এবং সাদেকা বেগমের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের নারী ইউপি সদস্য সাদেকা বেগম তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। সাদেকা বেগম উল্টো অপর এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি তোলেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

সার্বিক বিষয় প্রসঙ্গে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এমদাদুল হক শরীফ জানান, অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সত্য হলে জড়িত সাদেকা বেগম বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।