
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এটিএন বাংলা’ আয়োজিত ‘কুরআনের সুর প্রতিভার সন্ধানে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় হাফেজ হুজাইফা বিন শিবিরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির একটি রেস্তোরাঁয় ‘অ্যাডভোকেট শহীদ সাইফুল ইসলাম আলিফ স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে এই সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা শহিদুল মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট নাওশেদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী।
পদুয়া আইনুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ ন নোমানের উদ্বোধনী বক্তব্যের পর মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও আয়োজক কমিটির পক্ষে মূল বক্তব্য ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কোরআন মাওলানা খন্দকার মাহবুবুল হক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. কাশেম কামাল, লোহাগাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, রশিদের ঘোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন লোহাগাড়া উপজেলার সভাপতি অধ্যাপক হামিদুর রহমান এবং আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গণি।
এছাড়া লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. আব্দুল কাদের, বিএনপি নেতা আব্দুল আলম, ব্যবসায়ী নুরুচ্ছফা, সাবেক ইউপি সদস্য মুফিজুর রহমান, প্রজন্ম লোহাগাড়ার সভাপতি মাস্টার ফারুখ এবং মাস্টার নাছির উদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, হাফেজ হুজাইফা বিন শিবিরের এই কৃতিত্ব কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি লোহাগাড়া তথা সমগ্র অঞ্চলের জন্য এক গৌরবময় অধ্যায়। অদম্য পরিশ্রম, একাগ্রতা ও কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন তা অনুকরণীয়। বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজ যখন নানা বিভ্রান্তি ও চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন তার এই অর্জন একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে। এটি নতুন প্রজন্মকে কোরআন শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলবে এবং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক জীবনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে।
ভবিষ্যতেও হুজাইফা এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশ ও জাতির জন্য গৌরব বয়ে আনবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
সভা শেষে সংবর্ধিত শিক্ষার্থী হাফেজ হুজাইফা বিন শিবিরের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে ওমরাহ ভিসা প্রদান করা হয়। এছাড়া হুজাইফার বাবা-মা এবং শহীদ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের পিতাকেও অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
