
দেশে শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সব ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে চট্টগ্রামে আয়োজিত এক আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনে।
শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে ধর্মসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও ধর্মগ্রন্থসমূহে এর দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক এই সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়।
গাউসুল আজম হজরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) জন্ম দ্বিশতবার্ষিকী ও মহান ১০ মাঘ ১২০তম পবিত্র ওরশ শরিফ উদযাপনের অংশ হিসেবে মাইজভান্ডারি একাডেমি ১৩তম আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনের আয়োজন করে। শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি ট্রাস্টের (এসজেডএইচএম) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
সম্মিলনে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, সব ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে দেশপ্রেম, শান্তি ও মানবকল্যাণ। ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে বলব ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে ইসলাম শিক্ষা দেয়। সমাজে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
উৎপীড়ন, প্রতিহিংসা ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে যারা মানবসভ্যতা ধ্বংস করে কুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠাই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সম্মিলনের অন্তর্নিহিত তাগিদ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজনে আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউমারারি প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, পটিয়ার পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, চট্টগ্রাম ক্যাথিড্রাল প্যারিসের সহকারী পাল পুরোহিত ফাদার রুপক আইজ্যাক রোজারিও এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায়।
বৌদ্ধতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, বর্তমান পৃথিবীর অস্থিরতার প্রধান কারণ হচ্ছে সহিংসতা, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও আগ্রাসন মনোবৃত্তি। তাই আজ সর্বপ্রথম প্রয়োজন সব সম্প্রদায়ের মন থেকে এই চারটি কুধারণা অপসারণ করা। নীতি বা ধর্ম ছাড়া সমাজ জীবনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিন্তা অর্থহীন।
শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরান্দপুরী মহারাজ বলেন, দুঃখের বিষয় হলো এত ধর্মীয় চেতনায় সব ধর্মের সহাবস্থানের কথা স্বীকৃত থাকলেও বিদ্বেষপূর্ণ ভাবধারার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আজ সমগ্র বিশ্বে ন্যায়বোধ, প্রীতিবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংযমবোধ, সহিষ্ণুতা, মানবতা ও শৃঙ্খলার বড়ই দুর্ভিক্ষ।
ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, প্রায় সব ধর্মগ্রন্থই ন্যায়পরায়ণতা, সততা, দয়া ও পরোপকারের মতো সার্বজনীন নৈতিক গুণাবলির ওপর জোর দেয়। এটি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার পথ সুগম করে।
উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ হোসাইনের সঞ্চালনায় সম্মিলনে স্বাগত বক্তব্য দেন এসজেডএইচএম ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এম ডি জাফর। ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারীর বাণী পাঠ করেন গবেষণা সহকারী সাইদুল ইসলাম সাইদু।
এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসনাইন, গীতা পাঠ করেন অধ্যাপক শ্রী স্বদেশ চক্রবর্তী, ত্রিপিটক পাঠ করেন ভদন্ত এম বোধি মিত্র ভিক্ষু এবং বাইবেল পাঠ করেন পাস্টর রিপন রায়। হামদ পরিবেশন করেন সৈয়দ সামিউল হক ফরহাদাবাদী এবং মাইজভান্ডারি সংগীত পরিবেশন করেন মাইজভান্ডারি মরমী গোষ্ঠীর সিনিয়র সদস্য সৈয়দ জাবের সরওয়ার।
