
ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামের পটিয়ায় খামারিদের মাঝে গরু চুরির চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাত জেগে খামার পাহারা দিচ্ছেন তারা। এর মধ্যে পটিয়ার মনসা এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে গরু ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় নগরীর চান্দগাঁও থেকে গ্রেপ্তার তিনজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। তবে কেলিশহরে এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় এখনো কেউ ধরা পড়েনি।
উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনসা এলাকা থেকে সম্প্রতি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪টি গরু ও নগদ টাকা লুট করে একটি ডাকাত দল। ভুক্তভোগী নুরুল আলম জানান, ৪টি গরু ও ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লুট হওয়ায় তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো গরু বা টাকা উদ্ধার হয়নি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, পটিয়ার গরু লুটের ঘটনায় চান্দগাঁওয়ে গ্রেপ্তার তিনজনকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে। চান্দগাঁওয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি পটিয়ার ঘটনাতেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎস যশ চাকমা জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় পরিচালিত অভিযানে পটিয়া থানা পুলিশও অংশ নিয়েছে।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল রাতে চান্দগাঁও থানাধীন শমসেরপাড়ায় মহিউদ্দীনের গরুর খামারে হানা দেয় ডাকাতরা। তারা খামারের কর্মচারী মো. সালাউদ্দীনকে বেঁধে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ২টি গাভী ও ২টি বাছুরসহ প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল ও মোবাইল ফোন লুট করে।
খামারমালিক মহিউদ্দীন মামলা করার পর পুলিশ ২৬ এপ্রিল বাকলিয়া থেকে একটি মাইক্রোবাস জব্দ করে এবং চালক মো. সেলিম ওরফে সেনাম, আমান উদ্দিন ও আবদুল হামিদকে গ্রেপ্তার করে।
চান্দগাঁও থানার ওসি নুর হোসেন মামুন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিতে চকরিয়া ও ঈদগাঁও থেকে ১টি গরু ও ৩টি বাছুর উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ধারাবাহিক এসব ঘটনায় পটিয়ার খামারিরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কুসুমপুরার ফাতেমা আলিফ ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. আনিস জানান, পরিবার নিয়ে রাত জেগে খামার পাহারা দিচ্ছেন এবং আতঙ্কে দুটি গরু বিক্রিও করে দিয়েছেন।
পটিয়া ডেইরি খামার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল বলেন, গরু ও মহিষ চুরি বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা আতঙ্কিত; সশস্ত্র ডাকাত দল এসে লুট করলেও অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনাকে শুধু চুরি হিসেবে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে।
এদিকে ১৪ এপ্রিল কেলিশহর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবাসী আবছার উদ্দীনের বাড়িতে চুরির ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়। প্রবাসীর ভাই ও মামলার বাদী জসিম উদ্দীন জানান, দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন। এছাড়া ২৩ এপ্রিল গোবিন্দারখীল এলাকায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই এবং ২৪ এপ্রিল আশিয়া ইউনিয়নের মল্লাপাড়া এলাকায় মোজাফফর আহমদ চৌধুরীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক আরও জানান, অপরাধ প্রতিরোধে টহল জোরদার এবং কমিউনিটি পুলিশিং সক্রিয় করা হচ্ছে। খামারিরা সচেতন হলে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।
