সোনাইমুড়ীতে সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি

নোয়াখালীতে একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রচার করায় গোলজার হানিফ নামের এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ‘দৈনিক আমাদের সময়’ পত্রিকার সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি গোলজার হানিফকে গত ২৫ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টা ১১ মিনিটে মুঠোফোনে এই হুমকি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, গত বছরের ১৩ মার্চ সোনাইমুড়ীর পার্শ্ববর্তী চাটখিল উপজেলার নাহারখিল এলাকার ইটভাটা ব্যবসায়ী জাবেদ হোসেনকে অপহরণ করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ইটভাটায় পুড়িয়ে ফেলে। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেও এখনো মূল অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

নিহত জাবেদ হোসেনের স্ত্রী শারমিন আক্তার রূপা গত ২২ এপ্রিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে স্বামীর হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানান। সেসময় তিনি রাশেদ আলম ও আশরাফ নামের দুজনকে এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। এই সংবাদটি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিক গোলজার হানিফ তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রচার করেন।

সাংবাদিক গোলজার হানিফ জানান, সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই তাকে কমেন্ট করে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে সাউথ আফ্রিকার কোডযুক্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল করে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফেসবুক পেজ থেকে সংবাদটি সরিয়ে নিতে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিবেদন না করতে তাকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এমডি রুবেল নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্ট করে পোস্টটি মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এই হুমকিদাতার প্রকৃত নাম মো. রুবেল। তিনি চাটখিল উপজেলার নাহারখিল এলাকার পণ্ডিত বাড়ির সোলেমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, মো. রুবেলকে এলাকায় অনেকে ‘বোমা রুবেল’ নামে চেনে। আওয়ামী শাসনামলে তিনি অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং স্থানীয়রা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সরকার পতনের পর তিনি নতুন করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মুঠোফোনে তিনি জানান, হুমকিদাতার পরিচয় শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।