ফটিকছড়িতে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে ডা. মো. হাসান শহীদ নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. মোবারক হোসেন চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী।

মঙ্গলবার রাতে ফটিকছড়ি সদরের একটি রেস্তোরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনকারী ভুক্তভোগী মো. মোবারক হোসেন চৌধুরী উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ছাদেকনগর গ্রামের মো. গণি চৌধুরীর ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত ডা. মো. হাসান শহীদ ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের ফরেস্টার বাড়ির মনির আহম্মদের ছেলে। ডা. মো. হাসান শহীদ দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গমনকারীদের সরকারিভাবে শারীরিক ফিটনেস সনদ দেওয়ার কাজ করতেন এবং বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. মোবারক হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, তার প্রবাসী ভাই মোহাম্মদ নুর নবী চৌধুরী ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর একটি নিবন্ধিত দলিলের (২৬৯৩ নং কবলা) মাধ্যমে অভিযুক্ত ডা. মো. হাসান শহীদের কাছ থেকে ১৪ শতক নাল জমি কেনেন। সেখানে পাকা প্রাচীর দিয়ে তারা চাষাবাদও শুরু করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ টি এম আজহারুল ইসলামের আদেশে ওই জমির নামজারি চূড়ান্ত হয় এবং একটি নতুন খতিয়ান সৃজিত হয়। কিন্তু বিক্রেতা ডা. মো. হাসান শহীদ প্রভাব খাটিয়ে ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ সেই খতিয়ানটি বাতিল করান।

মো. মোবারক হোসেন চৌধুরী জানান, এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর রিভিশন মামলা করে মো. মোবারক হোসেন চৌধুরীর পরিবার নিজেদের পক্ষে রায় পান। এরপর ডা. মো. হাসান শহীদ দলিলটি জাল ও ভুয়া উল্লেখ করে মামলা করলেও সেখানে তিনি হেরে যান। মো. মোবারক হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, দুর্লোভী প্রতারক হয়ে ডা. মো. হাসান শহীদ একের পর এক মামলা দিয়ে তাদের নানাভাবে হয়রানি করে নিঃস্ব করে চলেছেন।

সাম্প্রতিক ঘটনার বিবরণ দিয়ে মো. মোবারক হোসেন চৌধুরী জানান, গত ১২ এপ্রিল তাদের জমির সীমানা প্রাচীর রক্ষণাবেক্ষণ করতে শ্রমিক গেলে ডা. মো. হাসান শহীদ ও তার লোকজন তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে ডা. মো. হাসান শহীদ মো. মোবারক হোসেন চৌধুরীকে আসামি করে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (সিআর ৩২৩/২০২৬) দায়ের করেন। মো. মোবারক হোসেন চৌধুরীর দাবি, তার ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্মান নষ্ট করতেই ডা. মো. হাসান শহীদ কেয়ারটেকারকে সামনে রেখে এই মিথ্যা মারামারি ও চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

প্রবাসে থাকা জমির মূল মালিক মোহাম্মদ নুর নবী চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, ডা. মো. হাসান শহীদ একের পর এক মামলা দিয়ে তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছেন। প্রবাসীরা কষ্টার্জিত অর্থ দেশের কল্যাণে ব্যয় করেন উল্লেখ করে মোহাম্মদ নুর নবী চৌধুরী ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রকৃত জমির দখল ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সার্বিক বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম জানান, এটি মূলত জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনা। মামলার বিষয়টি তিনি জেনেছেন, তবে এখনো আদালতের নির্দেশনার কপি পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। কপি পেলে আদালত নির্দেশিত পন্থা অনুযায়ী ওসি মো. সেলিম পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ডা. মো. হাসান শহীদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার দাবি, প্রতিপক্ষ মো. মোবারক হোসেন চৌধুরী একজন ভূমিদস্যু এবং তারা কৌশলে ত্রুটিপূর্ণ দলিল তৈরির মাধ্যমে ডা. মো. হাসান শহীদের নিজস্ব সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। তাই ডা. মো. হাসান শহীদ আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন এবং আদালতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মো. মোবারক হোসেন চৌধুরীর একাধিক স্বজন এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।