
বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে চার টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার।
বুধবার সচিবালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনাসংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির নতুন এই দামের ঘোষণা দেন। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারের দাম ১৯৫ টাকা থেকে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা করা হয়েছে।
সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলেও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মঙ্গলবারের বাজারদর অনুযায়ী, বাজারে প্রতি লিটার খোলা পাম তেল ১৬১ থেকে ১৬৮ টাকায় এবং সুপার পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে পরিশোধন কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে গত ১২ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই দিন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, ভোজ্যতেল একটি সংবেদনশীল পণ্য। ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনে সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা বলেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দেশীয় পরিশোধন কারখানার মালিকেরা বেশ কিছুদিন ধরেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দরবৃদ্ধির পক্ষে কিছুটা যৌক্তিকতা খুঁজে পায়।
তবে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) গত ৮ এপ্রিল ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছিল। ক্যাব নেতারা অভিযোগ করেন, দেশের বাজারে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে এবং কোথাও কোথাও বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়েও বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত তেলের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে বলে জানান ক্যাব নেতারা।
উক্ত মানববন্ধন থেকে ক্যাব নেতারা মোট ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে যথাক্রমে—সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি এবং অভিযান পরিচালনা করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা এবং ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮২ থেকে ১৯৩ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৯৫ টাকা। এছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম ছিল ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকা। বাজারে বর্তমানে যে দামে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে, বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের ঘোষণা করা নতুন দাম তার চেয়ে কম।
