
নোয়াখালীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলার একমাত্র আসামি সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আসামি আব্দুর রহিম রনিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে গত ১৫ এপ্রিল এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন জানান, এই রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিহত তাসনিয়া হোসেন অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রের কাছে দ্রুত রায় কার্যকর করার আবেদন জানান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আদালতের রায়ে তারা সংক্ষুব্ধ। মো. জসিম উদ্দিনের দাবি, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি আব্দুর রহিম রনির সাজা পাওয়ার মতো কোনো উপাদান বিদ্যমান ছিল না। ভিকটিমের শরীরে ও কাপড়ে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গিয়েছিল এবং ওই তিনজন ব্যক্তি জড়িত ছিল। যাদের ডিএনএ পাওয়া গেছে, তারা আব্দুর রহিম রনি নয় বলে তিনি দাবি করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই আইনজীবী আরও জানান, যে ব্যক্তির ডিএনএ মিলেছে, তাকে বাদীপক্ষ আসামি করেনি। তবে যেহেতু ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে, সেটা মেনে নিয়ে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে মো. জসিম উদ্দিন জানান।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় তাসনিয়া হোসেন অদিতার গলা এবং দুই হাত ও পায়ের রগ কাটা অবস্থায় ছিল।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাসনিয়া হোসেন অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ তাসনিয়া হোসেন অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট জমা দেয়। আব্দুর রহিম রনি পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আব্দুর রহিম রনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও বালিশসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছিল।
তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ ঘাতক আব্দুর রহিম রনির ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
