
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না, বরং শুষ্ক মৌসুমে যে অবস্থায় থাকে এখনো সে অবস্থাতেই আছে। প্রবর্তক মোড় এলাকায় খাল নির্মাণকাজের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল, তবে তা এরই মধ্যে নিষ্কাশন হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ের জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, তিনি নিজে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে এসেছেন এবং যেটুকু পানি ছিল, তা আজ ও আগামীকাল সকালের মধ্যে নিষ্কাশন হয়ে যাবে। মীর শাহে আলম আরও জানান, চট্টগ্রাম শহর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ‘পানির ওপর ভাসছে’ ধরনের প্রচারণা করা হচ্ছে, বাস্তবতা তার সঙ্গে মেলে না। ৬০ কিলোমিটার আয়তনের সিটি করপোরেশনের মধ্যে তিনি যে জায়গায় হেঁটেছেন, সেটা খুবই সীমিত এলাকা বলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম যোগ করেন।
খাল সংস্কার প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৬টি খাল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং জনবল ঘাটতির কারণে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়, যা বিভিন্ন সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গড়িয়েছে। ৩৬টির মধ্যে ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫টি খালের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। তবে বাকি একটি খাল হিজড়া খালে বর্তমান সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে মীর শাহে আলম নিশ্চিত করেন।
মীর শাহে আলম জানান, খাল সংস্কারের সময় স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে রিটেইনিং ওয়াল দেওয়া হয়েছিল, যা আপাতত পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সেটি অপসারণ করে খালটি স্বাভাবিক করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কোর তাকে জানিয়েছে। আকস্মিক অতিবৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব ছিল না উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাময়িক ভোগান্তি হলেও দ্রুত এর সমাধান হচ্ছে।
নগর প্রশাসন নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চট্টগ্রামে সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে দায়ী করলেও বাস্তবে এককভাবে কোনো সংস্থা পুরো পরিস্থিতির জন্য দায়ী নয় বলে মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন। মীর শাহে আলম আরও জানান, তিনি চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করবেন এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি গভর্নমেন্ট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিনের দাবি হলেও সরকার এ নিয়ে টেকনিক্যাল ও বিশেষজ্ঞ কমিটি করে পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেও মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন।
পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
