
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পানি সঞ্চালন লাইন বসাতে গিয়ে জোরারগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের বুক চিরে কাজ চলছে। এতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের পানির চাহিদা মেটাতে প্রায় ৭৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
ফেনী নদীর মুহুরী প্রকল্প রিজার্ভার থেকে পানি এনে শোধনের মাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী করতে নির্মাণ করা হচ্ছে এই আধুনিক শোধনাগার।
তবে প্রকল্পের পানি সঞ্চালন লাইন স্থাপন নিয়ে এলাকায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। জোরারগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের মাঝখান দিয়ে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানান।
তাদের অভিযোগ, সড়কের বুক চিরে পাইপলাইন বসানোর ফলে সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনীয়তা তারা বোঝেন। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সড়কের ক্ষতি কমাতে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত ছিল। দ্রুত সড়ক সংস্কারের নিশ্চয়তা না দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
জোরারগঞ্জ থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে দৈনিক অসংখ্য মাছবাহী ট্রাক ও পিকআপ চলাচল করে। এলাকার হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটি। কিন্তু পানি সঞ্চালন লাইনের কাজ করতে গিয়ে ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সড়ক খননের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। সড়ক সংস্কার করে লাইন বসানো হলে সবার জন্যই ভালো হতো।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পায়নের স্বার্থে এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা প্রকৌশলী রফিকুজ্জামান জানান, পানি সঞ্চালন লাইনের কাজ শুরুর পর স্থানীয়রা পুরনো সড়কটির সংস্কারের দাবি তোলেন। সড়কটি মূলত পুরনো বেড়িবাঁধ, যা আগে থেকেই খারাপ অবস্থায় ছিল।
তিনি বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী রাখতে সড়কটির প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।”
বেজা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পানির চাহিদা পূরণে দৈনিক ১০০ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি) ক্ষমতাসম্পন্ন এই পানি শোধনাগারটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালে। ১৮ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে শোধনাগারটি।
মুহুরী নদীর রিজার্ভ পানি আনার জন্য বসানো হচ্ছে ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার পাইপলাইন। পানি শোধনাগার নির্মাণ ও পাইপলাইন সঞ্চালনের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না জেভি কে (জেডএইচইসি/বিওডব্লিউএসএমইডিআরআইসি)।
পানি শোধনাগার প্রকল্পের পরিচালক হেলাল আহম্মদ জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে শোধনাগারটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
তিনি বলেন, “পানি সঞ্চালন লাইন নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। স্থানীয় এমপি নুরুল আমিন সরেজমিনে এসে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন।”
মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সড়ক নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তিনি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সমাধান করে দিয়েছেন।
