বাঁশখালী থানার ওসি বদল, দায়িত্বে রবিউল হক


যোগদানের পাঁচ মাসের মাথায় বদলি করা হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহকে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল হক।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশ অনুযায়ী, সাইফুল্লাহকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

সাইফুল্লাহ ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর বাঁশখালী থানায় ওসি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তার দায়িত্ব পালনকালে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অভিযান চালানো হয়নি। রমজান মাসে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতের বাহারছড়া পয়েন্টে ছাত্রলীগের সদস্যরা প্রতিদিন শোডাউন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ১০ এপ্রিল সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম বাজার এলাকায় পিএবি সড়কে ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। দুই মিনিটের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে কয়েকজন তরুণকে শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্লোগান দিতে এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাতে দেখা যায়।

এছাড়া গত কয়েক মাসে বাঁশখালীতে গরু চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এতে প্রান্তিক কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গরু চুরি ও মাদক কারবার বাড়লেও থানার পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনতাই

গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকার বটতলী বাজারে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী (৪৫)। তিনি খানখানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

ঘটনার চার মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কোনো মামলাও হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর জিয়াউলের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মজনু মিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ৫ জানুয়ারি বটতলী বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি চায়ের দোকান থেকে জিয়াউলকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরায়। কিন্তু গাড়িতে তোলার সময় তার অনুসারীরা জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আসামি গ্রেপ্তার ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ওসি খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “যারা জিয়াউলকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, তারা সবাই মহিলা। এখন তাদেরকে কীভাবে গ্রেপ্তার করব? এ ঘটনায় মামলা হয়নি। কাউকেও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।”

অথচ ঘটনার দিন তিনি জানিয়েছিলেন, আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং পুলিশের কাজে বাধাদানকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জিয়াউল খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

নতুন ওসি রবিউল হক

নতুন দায়িত্ব পাওয়া রবিউল হক এর আগে শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার ওসি ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি চাঁদপুর জেলায় পরপর চারবার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন।

২০১৬ সালে হাটহাজারী থানার এসআই থাকাকালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে অস্ত্রসহ ভোটকেন্দ্র থেকে গ্রেপ্তার করেন। ওই মামলার বাদীও ছিলেন তিনি।

এছাড়া ২০২১ সালে কোম্পানীগঞ্জে ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই মির্জা কাদেরকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে প্রহার করেন বলে অভিযোগ আছে।