স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাবা মৌলভী ছাঈদুল হকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের বাবা মরহুম মৌলভী ছাঈদুল হকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ জিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট হলরুমে মৌলভী ছাঈদুল হক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ সভা হয়।

ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও শহীদ জিয়া বিএম আইয়ের অধ্যক্ষ এ এম ফরিদুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. ছফওয়ানুল করিম, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফখর উদ্দিন ফরায়েজি, পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম, অধ্যাপক সুজন কান্তি নাথ, প্রভাষক আবদুল মান্নান, প্রভাষক সাহাব উদ্দিন, শীলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মাস্টার এনামুল হক, মাস্টার বজলুল করিম এবং পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মজিবুল হক চৌধুরী।

আলোচনা সভায় বক্তারা মরহুমের জীবনী ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

মৌলভী ছাঈদুল হক ১৯১৩ সালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার (তৎকালীন চকরিয়া উপজেলা) সদর ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী আবদুল আলী এবং মায়ের নাম হাকিমন বিবি।

তিনি পেকুয়ার ঐতিহ্যবাহী মৌলভী পরিবারের বংশধর ছিলেন।

মৌলভী ছাঈদুল হক ১৯৩৫ সালে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৩৯ সালে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ভারতে গিয়ে রামপুরের মোজাহেরুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি হাদিস, তাফসির ও ফিকহসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপমহাদেশের খ্যাতিমান আলেমদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

দেশে ফিরে ১৯৫০ সালে তিনি পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকতা শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি পেকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও দ্বীনিয়াত শিক্ষা দিতেন। শিক্ষাদানের জন্য তিনি ‘হুজুর স্যার’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

দীর্ঘ ২১ বছর শিক্ষকতা শেষে ১৯৭১ সালে তিনি অবসরে যান। এরপর জীবনের বাকি সময় কোরআন-হাদিস চর্চা, ইবাদত-বন্দেগি ও সমাজসেবায় অতিবাহিত করেন।

২০০৮ সালের ১ মে রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ৯৫ বছর বয়সে মারা যান।

আলোচনা সভা শেষে মরহুমের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়েছে।