
‘ইতিহাস থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
রোববার দুপুরে পটিয়া খরনা মুজাফফরাবাদ শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৩ মে মুজাফফরাবাদ গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এনামুল হক বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ জানে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। বিগত সময়ে শত চেষ্টা করেও জনগণের কাছ থেকে তার নাম মুছে দিতে পারেনি। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজাকারের মধ্য থেকেও এখন ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ বের হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে থেকে অভিনয় করে কেউ কেউ এখন ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করছে।” মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা এবং বধ্যভূমিতে গণহত্যায় নিহতদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন এমপি এনামুল হক।
বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইউএনও ফারহানুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক, সাবেক চেয়ারম্যান মফজল আহমদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুজিত বিকাশ দত্ত, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর মোহাম্মদ, মুক্তিযোদ্ধা সুনীল বিশ্বাস, অধ্যাপক বনগোপাল চৌধুরী ও তাপস কুমার দে।
মুজাফফরাবাদ গণহত্যা দিবস উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব দেবাশীষ দের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সমন্বয়কের সভাপতি বিপ্লব সেন, সেক্রেটারি কাজল কর, মানিক চন্দ্র কর, অজিত চৌধুরী, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ জসিম, সাবেক মেম্বার আবদুল করিম, ডা. বি. কে. দত্ত, অজিত দত্ত পুলক, প্রদীপ কর, নিউটন বিশ্বাস ও নয়ন দাশ বর্মন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৩ মে মুক্তিযুদ্ধের সময় পটিয়া খরনা মুজাফফরাবাদ গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গুলি করে তিন শতাধিক নারী-পুরুষকে হত্যা করে। স্বাধীনতার পর থেকে দিনটি উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে।
