
ঘরের কোণে আদরে রাখা যে মুখটি হাসে ভোরে,
সেই মুখটিই কেন হারায় আঁধার পথের ঘোরে?
রাস্তায় আজ ওত পেতে রয় মানুষরূপী হায়েনা,
মমতা বা বিবেক তাদের শিকল মানতে চায় না।
চৌদ্দ বছর বয়স কেবল, স্বপ্ন দেখার বেলা,
তাকে নিয়েই চলছে এখন পিশাচদের এই খেলা।
নিথর চোখে চেয়ে থাকে সে, নির্বাক অসহায়,
শরীরের ওপর পশুর থাবা যখন আঁচড় কেটে যায়।
একজনের সাধ মেটে না যখন, ডাকে অন্য সাথি,
পশুর উৎসবে নিভে যায় ওই কচি প্রাণের বাতি।
ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলে রেখে যায় আঁধারের ভাগাড়ে,
এমন নৃশংস পাপের বোঝা বইবে কে আর ঘাড়ে?
রক্তে ভেজা শরীর নিয়ে বিচার চাইতে গেলে,
থানার দোরগোড়ায় শুধুই অবজ্ঞাটুকু মেলে।
মামলা নিতে গড়িমসি, আইনের যত ফাঁক,
ন্যায়বিচারের আশায় তবু দেয় সে করুণ ডাক।
অপরাধী বুক উঁচিয়ে চলে প্রকাশ্য লোকালয়ে,
আর বিচারপ্রার্থী গুটিয়ে যায় এক বুক ভরা ভয়ে।
হায়েনার গায়ে লাগে না আঁচড়, নেই তো কোনো শঙ্কা,
ক্ষমতার দাপটে তারা বাজায় জয়ের ডঙ্কা।
সেখানেও আবার সাধুবেশে রক্ষাকর্তারা আসে,
দাঁড়ায় হায়েনার দোসররা সব জঘন্য এক বেশে।
সাফ বলে দেয়— ‘আদালত নয়, আমরা দেব সমাধান’,
আসলে তারা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে সম্মান।
তদন্ত আর তারিখের খেলায় বছর পার হয়ে যায়,
দুস্থ মায়ের চোখের পানি নীরবে কেবল শুকায়।
হায়েনারা পায় রাজকীয় অভ্যর্থনা চারিদিকে,
আর লাঞ্ছিত মেয়েটির ভবিষ্যৎ হয়ে যায় ফিকে।
তবে আর কতকাল সইবো মোরা এই অনাচার মুখ বুজে?
হায়েনার পালকে রুখতে হবে ন্যায়ের পথ খুঁজে।
জাগো হে জনতা, জাগো আজ বজ্রকঠিন স্বরে,
প্রতিবাদের আগুন জ্বলুক প্রতিটি ঘরে ঘরে।
ছিঁড়ে ফেলো ওই মুখোশধারী পিশাচের বিষদাঁত,
আইন যেন হয় শাণিত তলোয়ার, গুঁড়িয়ে দেয় ঘাতকের হাত।
রুখে দাঁড়াও রক্ষক নামধারী ওই ভণ্ড সাধুর দলে,
সত্যের জয় আনতে হবে সংগ্রামেরই বলে।
শপথ নাও আজ সমস্বরে, আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে—
পশুদের এই রাজত্ব দেবো ধুলোয় মিশিয়ে।
আর যেন কোনো কিশোরী না হয় ধর্ষিতা এই দেশে,
সুখ আর নিরাপত্তা ফিরুক প্রতিটি শিশুর মুখে।
মুক্ত বাতাসে বুক ভরে ওরা নেবে আগামীর শ্বাস,
হায়েনামুক্ত সুন্দর এক ভুবন হবে আমাদের আবাস।
