
দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর রেণু বিক্রি শুরু হয়েছে। ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের পর হ্যাচারিগুলোতে এখন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মৎস্য চাষিদের ভিড়।
সোমবার (৪ মে) থেকে হালদার দুই পাড় রাউজান ও হাটহাজারী এলাকার হ্যাচারিগুলোতে এই বেচাকেনা শুরু হয়।
প্রথম ধাপে উৎপাদিত এই রেণু বিক্রি করে দুই কোটি টাকার বেশি লেনদেনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বৃহস্পতিবার এপ্রিল মাসের শেষ দিনে হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। সেখান থেকে জেলেরা প্রায় ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করেন। নদী থেকে সংগ্রহের পর এসব ডিম ফোটানোর জন্য হ্যাচারি ও মাটির কুয়াগুলোতে নেওয়া হয়।
রাউজানের মোবারকখীল ও এনজিও সংস্থা আইডিএফ হ্যাচারি এবং হাটহাজারীর শাহ মাদারী, মদুনাঘাট ও মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু বিক্রি শুরু হয়েছে বলে মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বছর প্রতি কেজি রেণু ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরও প্রতি কেজি রেণুর দাম ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ছিল। তবে ক্রেতা বাড়লে এবার দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন জেলেরা।
হাটহাজারীর শাহ মাদারী হ্যাচারির বিক্রেতা মো. ইলিয়াস জানান, প্রথম দিনে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে আড়াই কেজি রেণু বিক্রি করেছেন।
অন্যদিকে, দুপুর ২টার দিকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দরে এক কেজি রেণু বিক্রি করার কথা জানান আইডিএফ হ্যাচারির ব্যবস্থাপক নূরুল হাকীম।
তিনি বলেন, তাদের কাছে অনেক ক্রেতা আসছেন এবং দরকষাকষির মাধ্যমে বেচাকেনা চলছে।
হ্যাচারিতে আসা মৎস্য চাষিরা জানান, গতবারের মতো এবারও রেণুর দাম বেশ চড়া।
হালদায় সাধারণত মে মাসে মা মাছ পুরোপুরি ডিম ছাড়ে। তবে এবার ব্যাপক বৃষ্টির কারণে আগেই ডিম ছেড়েছে বলে জানান জেলে ও মৎস্য কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সামনে মা মাছ আবারও ডিম ছাড়লে রেণুর দাম কিছুটা কমতে পারে।
রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেন, সোমবার থেকে রেণু বিক্রি শুরু হলেও মঙ্গলবার থেকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
নদী থেকে সংগ্রহ করা প্রথম ধাপের ৬ হাজার কেজি ডিম থেকে প্রায় ১৫২ কেজি রেণু পাওয়া গেছে বলেও জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।
হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সংগৃহীত ডিম থেকে উৎপাদিত রেণু সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার থেকে সব হ্যাচারি ও মাটির কুয়াগুলোতে পুরোদমে বিক্রি চলবে।
প্রথম দিনে দরকষাকষির মাধ্যমে ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত রেণু বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই গবেষক আরও বলেন, চলতি মে মাসে ১৪ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত অমাবস্যার জোঁ এবং ২৯ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত পূর্ণিমার জোঁ রয়েছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এ সময়ে মা মাছ নদীতে পুরোদমে ডিম ছাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
