মাঠে লবণের কেজি ৪ টাকা, প্যাকেটে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়


দেশের ‘সাদাসোনা’ খ্যাত কাঁচা লবণের দামে ব্যাপক ব্যবধান দেখা দিয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতি কেজি লবণ মাত্র চার টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে ক্রেতাদের তা কিনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

ফলে খুচরা বাজারে প্রতি মণ লবণের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। দামের এমন অস্বাভাবিক পার্থক্যের কারণে চরম লোকসান ও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন চাষিরা।

শুধু দাম নিয়ে হতাশা নয়, চলতি মৌসুমের শেষভাগে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে মাঠে থাকা লবণ গলে গেছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এই খাতের সঙ্গে জড়িত দিনমজুর ও শ্রমিকরা।

চাষিরা বলছেন, জমি বর্গা, পলিথিন ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে প্রায় ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪০০ টাকা খরচে উৎপাদিত প্রতি মণ লবণ চাষিদের বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৬০ টাকায়। অন্যদিকে মিল মালিকরা সেই লবণ কিনছেন ৩৪০ টাকায়। মাঝখানের ১৮০ টাকা চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

চাষিদের কাছ থেকে কাঁচা লবণ সংগ্রহের পর পরিশোধন প্রক্রিয়ায় মিলারদের খরচ পড়ে প্রতি মণে এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। পরবর্তীতে সেই লবণ প্যাকেটজাত করে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করেন উৎপাদকেরা।

মহেশখালীর কালারমারছড়া এলাকার লবণ চাষি আবদুল করিম নিজের হতাশার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “লবণ উৎপাদনে খরচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা হলেও বিক্রি করতে হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। আমাদের কাছ থেকে কোম্পানিগুলো প্রতি কেজি চার টাকায় কিনে বাজারে ৪০ টাকায় ছাড়ে। মাঝখানে ৩৬ টাকা কার পকেটে যায়, তা আমরা জানি না।”

গত তিন বছর ধরে একই গ্লানি টানছেন জানিয়ে দ্রুত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান আবদুল করিম।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের মাঠ থেকে উৎপাদিত লবণ সরাসরি কারখানায় পৌঁছাতে দেয় না মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি চক্র। তারাই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লবণ সংগ্রহ করে মিল মালিকদের কাছে সরবরাহ করে।

অভিযোগ রয়েছে, এই মধ্যস্বত্বভোগীরা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করেন। আবার বড় বড় প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও তাদের ওপর প্রভাব খাটান। ফলে সাধারণ চাষিদের লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

কক্সবাজার লবণ চাষি কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা আবদু শুক্কুর বলেন, শিল্পখাতে লবণ আমদানির বিষয়ে সরকারের যথাযথ গবেষণার অভাব রয়েছে।
দ্রুত লবণ আমদানি বন্ধ করে প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিদের জন্য লবণের দাম বাড়ানোর দাবি জানান আবদু শুক্কুর।

চলতি বছরে কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফসহ আশপাশের এলাকায় ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার বিসিকের (লবণ শিল্প উন্নয়ন) উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া।

তিনি জানান, এ বছর দেশে মোট ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের চাহিদা রয়েছে। তবে ১ মে পর্যন্ত ১৭ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।