
ভোলার শশীভূষণ থানার আলোচিত আব্দুর রহিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জাকির হোসেন ওরফে বাঘাকে (৩৬) তিন মাস পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার বিকাল চারটার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদার মুরাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৫-এর একটি দল।
সেখানে লাল মিয়ার দোকানের পাশের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন এই খুনের মামলার প্রধান আসামি।
মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১৫ কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার জাকির হোসেন ওরফে বাঘার বাড়ি ভোলা জেলার রসুলপুর এলাকায়। তার বাবার নাম মো. জয়নাল বাঘা।
সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, “শশীভূষণ থানা এলাকায় আব্দুর রহিমকে হত্যার পর থেকেই জাকির হোসেন আত্মগোপনে ছিল। সে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দুর্গম এলাকায় নিজের পরিচয় গোপন করে অবস্থান নেয়। গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে আমরা অভিযান চালাই।”
র্যাব জানায়, আব্দুর রহিম হত্যার ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি। নিহতের ছেলে আমির হোসেনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের শুরু হয়।
এই বিরোধের জেরে প্রথম দফায় আমির হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অভিযুক্তরা। এর জের ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকে।
শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহাসড়কে আব্দুর রহিম এবং তার সঙ্গে থাকা ভুট্টো হেঁটে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে আব্দুর রহিমের মাথা, ঘাড় ও গলায় নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি জাকির হোসেন বাঘা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সদর দপ্তর থেকে কক্সবাজারের র্যাব অধিনায়ককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির একটি দল মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে জাকির হোসেন বাঘার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় তারা।
র্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন বাঘা হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “ভোলার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জাকির হোসেন বাঘাকে মঙ্গলবার সকালে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে র্যাব।”
ভোলার শশীভূষণ থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ওই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।
