
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় শিশুদের প্রিয় খাবার আইসক্রিমের আড়ালে চলছিল বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং মিশিয়ে নকল আইসক্রিম তৈরির ভয়ংকর কারবার। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি এসব আইসক্রিম বাজারজাত করা হচ্ছিল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের এক অভিযানে উন্মোচিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পরিচালিত অভিযানে দুটি আইসক্রিম কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া আইসক্রিম ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনের দায়ে ‘নিউ আলিফ’ ও ‘নাহিয়ান আইসবার’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান এবং তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সরোয়ার কামাল।
অভিযান চলাকালে কারখানাগুলোতে গিয়ে প্রশাসন দেখতে পায়, মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যাল, নিম্নমানের ফ্লেভার ও অস্বাস্থ্যকর রং ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছিল। সেখানে উৎপাদনের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। খাদ্য উৎপাদনের ন্যূনতম কোনো মানদণ্ডও সেখানে মানা হচ্ছিল না। এ ছাড়া কারখানাগুলোতে ছিল না কোনো প্রশিক্ষিত কর্মী, কেমিস্ট কিংবা মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম, ফ্লেভার ও ক্ষতিকর রং জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, আইসক্রিমের নামে শিশুদের আসলে কী খাওয়ানো হচ্ছে, তা এই অভিযানে স্পষ্ট হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শুধুমাত্র লাভের আশায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছে। যেসব কেমিক্যাল ও রং তারা ব্যবহার করছে, সেগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউএনও আরও জানান, জনসম্মুখে সেই ক্ষতিকর রং কারখানার ম্যানেজারকে খেতে বললেও তিনি তা খেতে অস্বীকৃতি জানান। তাহলে শিশুদের কেন এসব বিষাক্ত খাবার খাওয়ানো হবে, এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। মানুষের জীবন ও শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে যারা ব্যবসা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান আরও কঠোরভাবে চলবে বলেও তিনি জানান।
নিরাপদ খাদ্য আইনে ‘নিউ আলিফ’ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মুহাম্মদ জুয়েলকে ১ লাখ টাকা এবং ‘নাহিয়ান আইসবার’-এর মালিক আলাউদ্দিনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
