মানিকছড়িতে হালদাপাড়ের চাষিদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কর্মশালা


দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র (রুই জাতীয়) হলো হালদা নদী। প্রজনন মৌসুমে রুই, কাতল, মৃগেল, কালিবাউশসহ মিঠা পানির সব মাছ ডিম ছাড়তে অতিথি পাখির মতো এই হালদা নদীতে এসে ভিড় জমায়। হালদার পানি প্রজননের জন্য অধিক নিরাপদ হওয়ায় মৎস্য উৎপাদনে এটি দেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার এবং পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী হিসেবে সুপরিচিত।

কিন্তু এই নদীর গুরুত্ব এখনো এর তীরবর্তী মানুষের কাছে অজানা। ফলে হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অংশীদারদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার আয়োজন করেছে হালদার উজানে অবস্থিত খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য বিভাগ।

হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (২য় পর্যায়) সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এই উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. সুমন বড়ুয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রাজু আহমেদ বলেন, হালদা নদী আমাদের জন্য প্রকৃতির এক বিশাল নিয়ামত। এই নদীর মৎস্য পোনা লাখ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এর ফলে দেশে মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে হালদা।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, হালদার ওপর মানবসৃষ্ট দুর্বৃত্তায়নের কারণে আজ এই হেরিটেজ ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য হালদার উজানে নদীর দুপাড়ে তামাক চাষ বন্ধে সরকার গেজেট প্রকাশ করেছে। তাই তামাক চাষিদের হালদার আশেপাশে তামাকের বিকল্প আবাদে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে হালদা প্রকল্প এবং সরকারের মৎস্য ও কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মীর হোসেন এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল মান্নান।

এ ছাড়া তামাক চাষি মো. তাজুল ইসলাম, মাসুম মিয়া ও মো. গিয়াস উদ্দিন কর্মশালায় উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।