বাইসাইকেল দুর্ঘটনা থেকে ‘মারধরের মামলা’, প্রবাসীসহ নিরীহদের ফাঁসানোর অভিযোগ


চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নে একটি সাধারণ বাইসাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসীসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বটতলী মোটর স্টেশনের একটি হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেলিম উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২ মে দুপুরে বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চাকফিরানী দেওয়ানপাড়ার বাসিন্দা হাসিনা বেগমের ছেলে এহসান হাবিব (১২) তার কয়েকজন বন্ধু ইয়াছির (১২), সাহেদ (১৩), রিয়াদ (১৩) ও মনোয়ার (১২)-কে সঙ্গে নিয়ে বাইসাইকেলযোগে আধুনগর ইউনিয়নের লোহাগাড়া রেলস্টেশন এলাকায় বেড়াতে যায়।

ফেরার পথে বড়ুয়াপাড়া এলাকায় চলাচলের সড়কে বাইসাইকেল দুর্ঘটনায় এহসান হাবিব আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আহত শিশুর সঙ্গে থাকা অন্যান্য কিশোরদের সঙ্গে কথা বলে। তারা সবাই এটিকে একটি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে এবং সেখানে কোনো ধরনের হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে পুলিশকে জানায়।

তবে পূর্বের ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধ, বিশেষ করে এলাকায় সামাজিক পুকুর খননকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে একটি পক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন সেলিম উদ্দিন। তাদের দাবি, ওই ঘটনার জেরে আহত শিশুর মা হাসিনা বেগম গত ৪ মে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে রাজনৈতিক ও মারধরের ভুয়া অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলায় প্রবাসীসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন মোহাম্মদ রিপন (৩২), মোহাম্মদ সেলিম (৩৮), মোহাম্মদ সাইফুল (৩৫) এবং আব্দুন নুর (৩৫)।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম উদ্দিন উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি কয়েকজন ওই সময় এলাকায়ও ছিলেন না। বিশেষ করে প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

তার অভিযোগ, একটি সাধারণ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসামূলকভাবে নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো হয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো মানসিক চাপ, সামাজিক অপমান ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, প্রত্যক্ষদর্শী ও সঙ্গে থাকা কিশোরদের বক্তব্য আমলে নেওয়া, নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এ ছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন তারা। প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন হবে এবং নিরপরাধ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।