ফটিকছড়িতে প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি জামায়াত নেতার


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সালাহউদ্দিন জিকু নামের এক সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শাহজাহান।

তিনি উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী পরিষদের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরে অবস্থিত ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। সাংবাদিককে হুমকির এই ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সদরের একটি বহুতল ভবন নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকু। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মার্কেটে অবস্থিত প্রেসক্লাব কার্যালয়ে কয়েকজন লোক নিয়ে উপস্থিত হন মো. শাহজাহান।

সেখানে তিনি সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকুকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধরের কথাও বলেন।

সেসময় ঘটনাস্থলে ওই সাংবাদিককে না পেয়ে মুহূর্তেই তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন অভিযুক্ত এই জামায়াত নেতা। এমনকি সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকুর সহকর্মীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাদেরও শাসানোর চেষ্টা করা হয়।

এই ঘটনার পর নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সালাহউদ্দিন জিকু বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জিকু জানান, সদরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একাংশ জায়গায় শাহজাহানের একটি বহুতল ভবন রয়েছে। সেটি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তিনি হুমকির মুখে পড়েন এবং তাকে মারতে আসা হয়। বর্তমানে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত বলে জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শাহজাহান মুঠোফোনে জানান, তিনি কাউকে হুমকি দেননি। তবে তিনি মেজাজ হারিয়েছিলেন বলে স্বীকার করে দাবি করেন, ওই সাংবাদিক তার চরম ক্ষতি করেছেন।

ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক মোহাম্মদ আবু জাফর এ বিষয়ে জানান, শাহজাহান জামায়াতের একজন নিষ্ক্রিয় কর্মী। আগে তিনি পেশাজীবী পরিষদের সহসভাপতি থাকলেও বর্তমানে ওই পদে নেই।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

প্রশাসন ও পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অপরাধীরা কোনো অবস্থাতেই পার পাবে না।

অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে ছুটে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, তিনি উপস্থিত সবার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একজন রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঠিকতা যাচাই করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।