
চট্টগ্রামের পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী আমজু মিয়ার ১১৭তম বলীখেলার আসর বসছে শনিবার (৯ মে)। প্রতিবছর বাংলা মাসের ১৪ বৈশাখ এই বলীখেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে ২৬ বৈশাখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বলীখেলাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে পটিয়া পৌরসদরের বৈলতলী রোডস্থ আমজু মিয়া চৌধুরীর বাড়ির মাঠে দিনব্যাপী লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়েছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বলীদের পাশাপাশি কক্সবাজারের টেকনাফের দিদার বলী ও মহেশখালীর কলিম বলীসহ দেশের অর্ধশতাধিক নামকরা বলী অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে এই বলীখেলাটি পৌরসদরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরীর দিঘীপাড়ের বলীখেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। কালের পরিক্রমায় নাম পরিবর্তন হয়ে এটি বর্তমানে ‘আমজু মিয়ার বলীখেলা’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।
আয়োজকরা জানান, বলীখেলা ও লোকজ মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আনোয়ার আলম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং শাহজাহান চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে একটি উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই আয়োজন সফল করতে পটিয়া থানা পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।
খেলায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বলীরা অংশ নেন। গত এক যুগ ধরে দেশের নামকরা বলীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছেন। ফলে আগের তুলনায় দর্শনার্থীদের ভিড়ও অনেক বেড়েছে। বলীখেলায় বিজয়ীদের মাঝে নগদ অর্থ ও স্বর্ণপদক বিতরণ করা হয়, যা এবারও অব্যাহত থাকবে।
পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই বলীখেলায় বলীদের লড়াই দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো, ফলে মানুষ সহজেই আসতে পারে। বিগত বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বলীখেলার পাশাপাশি দিনব্যাপী লোকজ মেলাতেও মানুষের ব্যাপক ভিড় থাকে এবং মেলায় বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।
বলীখেলা ও লোকজ মেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে থাকায় প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তাই আমরা তারিখ পরিবর্তন করে ৯ মে নির্ধারণ করেছি।
তিনি জানান, চট্টগ্রামের বলীদের পাশাপাশি কক্সবাজার ও কুমিল্লা থেকেও দেশসেরা বলীরা অংশ নেবেন। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।
শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, তার দাদার নামে বলীখেলাটি পরিচিত হলেও অনেকেই এটিকে এখনও পরীর দিঘীপাড়ের বলীখেলা হিসেবেই চেনেন।
