ফটিকছড়িতে কৃষক-জনতার উচ্ছ্বাস, বিএনপি নেতার উদ্যোগে খাল সংস্কার


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভায় অন্তত ৪০ বছরের অবহেলিত ‘মরা ধুরুং খাল’ সংস্কারে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ এমরান। বেদখল ও ব্যবহার অনুপযোগী খালটি নিজস্ব অর্থায়নে কৃষক-জনতার স্বার্থে সংস্কার করে দিচ্ছেন তিনি।

মোহাম্মদ এমরান পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সদস্য, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। অনুষ্ঠিতব্য পৌর নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, মানবিক উদ্যোগ ও জনকল্যাণমূলক কাজে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডসহ পৌর এলাকায় বিভিন্ন সময়ে মানবসেবা ও জনকল্যাণকর কাজে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই বিএনপি নেতা।

গত বুধবার ফটিকছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডস্থ মুনাফখীল মাদ্রাসা থেকে জব্বারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১২ ফুট প্রস্থের ‘মরা ধুরুং খাল’ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, অসংখ্য শ্রমিক ও কৃষকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে খাল সংস্কারের কাজ চলছে। একাধিক এক্সকাভেটর দিয়ে সরানো হচ্ছে বেদখলে থাকা খালের প্রতিবন্ধকতা, ফেরানো হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি পরম মমতায় বিএনপির এই নেতার জন্য দোয়া করেন।

বাসিন্দারা জানান, গ্রামের উন্নয়ন ও মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে রাজনৈতিক নেতাদের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। দীর্ঘদিন খালটি বেদখল ও সংস্কার না হওয়ায় পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে এলাকার বাসিন্দা ও কৃষকদের চরম কষ্ট পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং পানিনিষ্কাশনে চরম ভোগান্তি ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী।

তাদের মতে, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ এমরানের এমন উদ্যোগ শুধু একটি খাল সংস্কার নয়, বরং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

সংস্কারকাজের তত্ত্বাবধায়ক মো. রাশেল জানান, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মদ এমরান আগ্রহভরে তাকে সংস্কারকাজ শুরু করার দায়িত্ব দেন। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খালের ইতিমধ্যে আধা কিলোমিটার অংশের কাজ শেষের পথে। তিনি আরও জানান, দৈনিক লাখ টাকা ব্যয়ে এই সংস্কারকাজ এলাকাবাসীর সহায়তায় জোরেশোরেই এগিয়ে চলছে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ এমরান বলেন, কে কাজ করল আর কে করল না, সেটা তিনি দেখবেন না। তিনি শুধু দেখেন তিনি নিজে কাজ করছেন কি না এবং তার কাজ কতটা মানুষকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। নিজের মনমতো কাজ করতে পারলেই তিনি শান্তিতে থাকতে পারবেন বলে জানান।

মোহাম্মদ এমরানের মতে, একা দেশ বদলানো সম্ভব নয়, তবে সদিচ্ছা থাকলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সবার মধ্যে দেশ বদলের ইচ্ছা জাগিয়ে দিয়েই প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি তার নিজ জায়গা থেকে এবং তার এলাকায় সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, আর বাকিটা মানুষ মূল্যায়ন করবে।

সংস্কারকাজ দেখতে গিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সরোয়ার মফিজ বলেন, জনগণের জন্য রাজনীতি করা বৃহৎ দল বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সব সমস্যা সমাধান করবে। মোহাম্মদ এমরানের এই মহতী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় যুবদল নেতা মো. এমদাদ হোসেন বলেন, জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করতে হলে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই রাজনীতির মূল শক্তি। তিনি মনে করেন, মোহাম্মদ এমরান রাজনীতির এক অনন্য ভিত্তি তৈরি করেছেন।

পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল আলম আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনি হাত লাগালেই বদলে যাবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ তিনি মোহাম্মদ এমরানের মতো সবাইকে নিয়ে দেশের পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের সেচ সুবিধা ও পানি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ও কৃষক-জনতা এ ধরনের কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এর ফলে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে।