
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নেতৃত্ব সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলা সভাপতি এম এয়াকুব আলীর হঠাৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই দক্ষিণ জেলার আটটি উপজেলায় দলীয় কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলা থেকে এলডিপি নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করায় তৃণমূলের মাঝে গভীর হতাশা দেখা দিয়েছে।
রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের। সেখানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার এই সাংগঠনিক স্থবিরতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, একসময় দক্ষিণ চট্টগ্রামে এলডিপির সাংগঠনিক অবস্থান বেশ দৃশ্যমান থাকলেও বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে অনেক কমিটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। নিয়মিত সভা-সমাবেশ, কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বাড়ছে।
বিশেষ করে পটিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী উপজেলায় দলীয় কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় কোনো কর্মসূচি নেই বললেই চলে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপির সভাপতি এম এয়াকুব আলী হঠাৎ করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও কেন্দ্রীয় সংসদ এখনো নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেনি। এদিকে দলীয় আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপির বড় একটি অংশ অচিরেই বিএনপিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তৃণমূল নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ কেউ বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন। এতে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তাদের অভিযোগ, জেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের কারণেই দক্ষিণ জেলা এলডিপি ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। দলকে পুনর্গঠনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা করছেন তারা।
আবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার একক কর্তৃত্ব পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের হাতে থাকায় সাধারণ নেতাকর্মীরা ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না।
তবে জেলা এলডিপির কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, সাংগঠনিক কিছু সমস্যার কারণে কার্যক্রমে সাময়িক ধীরগতি দেখা দিলেও দল পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনছুর আলম বলেন, দক্ষিণ জেলার সভাপতি এম এয়াকুব আলী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নতুন করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
সাংগঠনিক স্থবিরতা বিরাজ করায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে সভাপতি পদে কেন্দ্র থেকে শিগগিরই কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
