আনোয়ারায় থামছে না রহস্যজনক মৃত্যুর মিছিল; এবার গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার


চট্টগ্রামের আনোয়ারায় হালিমা আক্তার মুন্নি (২১) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এখন আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে।

আজ রোববার সকালে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া গ্রামের নবী হোসেন মেম্বারের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।

নিহত হালিমা আক্তার মুন্নি উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সির বাড়ির মোহাম্মদ ইসহাকের মেয়ে। তিনি ওই এলাকার নবী হোসেন মেম্বারের ছেলে মিজানুর রহমানের স্ত্রী ছিলেন।

নিহত মুন্নির বড় ভাই নঈম উদ্দিন জানান, মিজানুর রহমান আজ ভোরবেলা ফোন করে মুন্নির আত্মহত্যার খবর দেন। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা দেখেন, মুন্নির পা মাটির সঙ্গে লেগে আছে এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক নানা বিষয়ে মুন্নির ওপর নির্যাতন চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর এখন আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে বলে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ী এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। যদি এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণিত হয়, তবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী এটি একটি হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে।

আনোয়ারা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রায়ই এ ধরনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তাদের শিথিলতা এবং প্রভাবশালীদের চাপে প্রকৃত তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও আইনি লড়াইয়ে গিয়ে তা থমকে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনার যেন যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয় এবং বিচার প্রক্রিয়া যেন শুধু ‘আত্মহত্যা’ লেবেলে সীমাবদ্ধ না থাকে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।