
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহারের অভিযোগে অভিযানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাজেদ এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ‘একুশে পত্রিকা’য় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রশাসন এই অভিযান চালায়।
এর আগে রোববার রাতে একুশে পত্রিকায় ‘সাতকানিয়ায় পাহাড় কেটে সরকারি প্রকল্পে মাটি ব্যবহারের অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের সোনাইছড়ি উপপ্রকল্পে স্পিলওয়ে পুনর্নির্মাণকাজে’ পার্শ্ববর্তী পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স মাজেদ এন্টারপ্রাইজ।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে সোমবার সরেজমিনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয়।
ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারি কিংবা বেসরকারি—কোনো প্রকল্পেই পাহাড় কাটা বা পাহাড়ের মাটি ব্যবহারের সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু জরিমানা করলেই হবে না, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তাঁরা।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণেই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
