চকরিয়ায় শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ টাকাসহ সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ লুট


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এক সাবেক কলেজ শিক্ষকের বাড়িতে গভীর রাতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে।

ডাকাতকবলিত বাড়ির গৃহকর্তা চকরিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মরহুম অধ্যাপক আবু তাহের সিকদারের ছেলে কামরুল হাসান সিকদার জানান, সোমবার রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তার বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা প্রথমে ঘরের কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে।

তিনি আরও জানান, এ সময় ডাকাতরা তার স্ত্রী ও মাকে জিম্মি করে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। পরে আলমারি খুলে নগদ প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

কামরুল সিকদার জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্তে ডাকাতির ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে মাদক বিক্রি ও সেবন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে বিশ্বরোড এলাকায় দুই নারী যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে বানিয়ারকুম এলাকায় এক বিএনপি নেতাসহ কয়েকজন পথচারী দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাতির শিকার হয়েছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, রাতে ৯৯৯-এর মাধ্যমে ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।