
যে বাড়িতে বাজার করে নিয়ে আসার কথা ছিল বিয়ের রঙিন পোশাক, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। ভাইদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় যে পরিবারের দিন কাটছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে, সেই অপেক্ষার প্রহর এখন পরিণত হয়েছে বুকফাটা আর্তনাদে। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকায় এখন শুধুই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা আর স্বজন হারানোর হাহাকার। বুধবার (১৩ মে) ওমানে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সহোদরের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের অমানিশা।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি করতেন চার ভাই— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম এবং শহিদুল ইসলাম। পরিবারে এক ভাইয়ের বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল খুব শিগগিরই। সেই আনন্দ আয়োজনে যোগ দিতে দুজনের দেশে ফেরারও কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা করতে চার ভাই একসঙ্গে হাসিমুখে বের হয়েছিলেন, কিন্তু সেই হাসি যে চিরতরে মুছে যাবে তা কে জানত! ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে তাদের চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই হৃদয়বিদারক দুঃসংবাদটি প্রথম দেশে আসে ওমানে অবস্থানরত একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে। তার কাছ থেকে খবর পেয়ে লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব সেই নিদারুণ কষ্টের কথা সবাইকে জানান। রাতের কোনো এক নির্জন প্রহরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি স্থানীয়রা পরদিন বুধবার সকাল ৮টার দিকে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাড়ি থেকে চিরঘুমে শায়িত চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, প্রচণ্ড ক্লান্তি নিয়ে গাড়ির ভেতর এসি চালিয়ে হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তারা। আর সেই ঘুমন্ত অবস্থাতেই এসির গ্যাস লিকেজ থেকে বিষক্রিয়ায় নীরবেই ঝরে গেছে তরতাজা চারটি প্রাণ। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
বর্তমানে রোস্তাক থানার হেফাজতে থাকা এই চার ভাইয়ের মরদেহ মাস্কাটে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ প্রশাসন ও বাবু জানিয়েছেন। যে ভাইয়েরা একসঙ্গে প্রবাসে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন, তারা একসঙ্গেই অনন্তকালের পথে পাড়ি জমালেন। তাদের এমন অকাল এবং মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ার আকাশ-বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠেছে, স্বজনদের গগনবিদারী কান্নায় স্তব্ধ হয়ে গেছে চারপাশ।
