
বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে এই প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনে সমুদ্রপথে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে ‘ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্র্যান্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের অর্জন তুলে ধরা হয়।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রবাসীদের ঘামের টাকায় দেশের অর্থনীতি চলে উল্লেখ করে তিনি আগামী দিনগুলোতে বিদেশফেরতদের কল্যাণে টেকসই উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় ও আত্মসাৎ হয়ে যায়, অথচ অভিবাসীদের ঘামঝরা পরিশ্রমে অর্জিত অর্থই অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। তাই তাদের পুনরেকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে পাশে থাকার কথা জানান তিনি।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ক্ষেত্রে আরও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বায়রা’র সদস্যপদে শুধু সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে মানভিত্তিক গ্রেডিং নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের কল্যাণে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার চাইলে এ ক্ষেত্রে ব্র্যাকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদা বিশ্লেষণ করে দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং বিদেশফেরতদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরেক বিশেষ অতিথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, ঋণ পরিশোধের চাপে অনেক কর্মী বৈধ-অবৈধ পথের বিষয়টি বিবেচনা করেন না। ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরা এসব মানুষের জন্য মনোসামাজিক ও জীবিকা সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশনের কাউন্সেলর ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হবে এবং বৈধ পথে বিদেশ যাওয়াকে উৎসাহিত করতে হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক লোকমান হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের পরিচালক সাফি রহমান খান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান। এ ছাড়া বিদেশফেরত অভিবাসী সেলিনা বেগম ও সোহেল রানা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
