ওমানে নিহত চার ভাইয়ের বাড়িতে এমপি হুম্মাম, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস


ওমানে মর্মান্তিকভাবে নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার সহোদরের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে গেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকায় নিহতদের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এই সংসদ সদস্য।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশে এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, এই পরিবারের সদস্যরা আপনাদেরই আপনজন। সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।

আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি আরও বলেন, মৃত্যু যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে আমরা কেউ চিরস্থায়ী নই। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বেঁচে থাকা একমাত্র ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী জানান, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।

নিহত চার ভাই হলেন— রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাদের বাবার নাম মৃত আবদুল মজিদ। পরিবারে তাদের মা এবং আরেক ভাই রয়েছেন। রাসেদুল ও শাহেদুল বিবাহিত ছিলেন, অন্যদিকে সিরাজুল ও শহিদুল ছিলেন অবিবাহিত।

জানা যায়, এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে দুই ভাইয়ের শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। সে উপলক্ষে কেনাকাটা করতে চার ভাই একসঙ্গে বের হন। পরে ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, গাড়ির এসির গ্যাস লিকেজ থেকে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই দিন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।