পদবঞ্চিতদের বাধায় পটিয়ায় ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল পণ্ড, আহত ৪


চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটিতে নতুন পদ পাওয়া পটিয়ার নেতাদের একাংশের আনন্দ মিছিল পদবঞ্চিতদের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া শান্তিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের কোনো সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে নতুন করে ৭২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এতে যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য মিলিয়ে পটিয়া উপজেলা থেকে ১২ জনকে রাখা হয়। কমিটিতে নতুন পদ পাওয়া বেশিরভাগ নেতাই দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির অনুসারী। অন্যদিকে, কমিটিতে স্থান না পাওয়া পদবঞ্চিতরা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়নের অনুসারী বলে পরিচিত। এই পদবঞ্চনা থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার বিকালে পটিয়ার শান্তিরহাট কামাল সেন্টার মার্কেট এলাকায় নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া রবিউল হোসেন রবির অনুসারীরা একটি আনন্দ মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেন। একপর্যায়ে এস এম নয়নের নেতৃত্বে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে মিছিলে বাধা দিলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে আনন্দ মিছিল করতে না পেরে শান্তিরহাট মীর সুপার মার্কেট এলাকায় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নতুন পদপ্রাপ্তরা।

সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় পদবঞ্চিতদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি ও মারামারি হয়। এতে ছাত্রদলের চারজন কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে মো. সায়মন, নুরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান হাবিবের নাম জানা গেছে। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশ শেষে চলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হন। এর মধ্যে সায়মন ও নুরুল ইসলামের পেট ও পায়ে আঘাত লেগেছে। তিনিও হামলায় আহত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আনন্দ মিছিলে বাধার বিষয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম নয়ন বলেন, বিগত দিনে যারা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এবং দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা এই কমিটিতে মূল্যায়ন পাননি। তাই পদবঞ্চিত ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এই আনন্দ মিছিল করতে দেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির মুঠোফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ শান্তিরহাট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এরপর তারা সেখান থেকে চলে যান। মারামারি বা হতাহতের বিষয়ে কেউ পুলিশকে কিছু জানায়নি এবং এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি।