
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিনের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সংকটের অবসান হয়েছে। অবশেষে এসব ক্লিনিকে মেডিসিন কিট ও ২২ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৩ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে এসব ওষুধ পাঠানো হয়। মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ‘একুশে পত্রিকা’য় প্রকাশিত ধারাবাহিক সংবাদের প্রভাবেই দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গত ৭ মে একুশে পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এবং পরবর্তীতে ১১ মে প্রিন্ট ভার্সনে ‘পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও ওষুধের তীব্র সংকট, অচল মহেশখালীর ৩০টি ক্লিনিক’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। এরপর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ক্লিনিকগুলোতে এসব ওষুধ ও মেডিসিন কিট পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি কিংবা শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয় কোনো ওষুধ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে হতো। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণকারী নারীরাও প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সম্প্রতি পুনরায় ওষুধ সরবরাহ শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ এখন আবারও কমিউনিটি ক্লিনিকমুখী হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল প্রতিবেদন জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে এবং প্রশাসনও দ্রুত সাড়া দিয়েছে।
কালারমারছড়া এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন, শুধু একবার ওষুধ পাঠালেই হবে না, ভবিষ্যতেও যেন ধারাবাহিকভাবে এই সরবরাহ বজায় থাকে, সেদিকে কড়া নজর দিতে হবে। পাশাপাশি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসকের উপস্থিতি ও জরুরি ওষুধের মজুত রাখার দাবিও জানান তিনি।
মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং মেডিসিন কিট পাঠানো হয়েছে। প্রতি ক্লিনিকে ৩টি করে ৩০টি ক্লিনিকের জন্য ৯০টি এবং জরুরি প্রয়োজনে আরও ৩টিসহ মোট ৯৩টি মেডিসিন কিট আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যে ৯০টি কিট ক্লিনিকগুলোতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো দিয়ে আগামী ৩-৪ মাস পার করা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে আরও সামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কিছু সময় সরবরাহ সংকট থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবসময় সচেষ্ট রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।
