বাঁশখালীতে ৪৫ বছর পর জলকদর খাল পুনঃখনন শুরু, ৬১ লাখ টাকার প্রকল্প


দীর্ঘ ৪৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অবশেষে শুরু হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত জলকদর খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার খানখানাবাদ ও বাহারছড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ জলকদর খালের পুনঃখননকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জলকদর খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মোট ২ হাজার ৪০০ মিটার খাল খনন করা হবে। এর মধ্যে খানখানাবাদ ইউনিয়নে ১ হাজার ১০০ মিটার, বাহারছড়া ইউনিয়নে ১ হাজার ১০০ মিটার এবং সাধনপুর এলাকায় ৩০০ মিটার খননকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬১ লাখ ৮৩ হাজার ১০৪ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে খালে পলি ও মাটি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এর সুফল পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরীফ মুহাম্মদ রুবেল, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত জলকদর খাল পুনঃখননকাজ বাস্তবায়িত হলে বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

প্রসঙ্গত, খালটি ভরাট ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবিতে স্থানীয়দের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৬ জন সার্ভেয়ার নিয়োগ করা হয়। পরে বাঁশখালী উপজেলা ভূমি অফিসের তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত জরিপ শেষে সিএস ও বিএস নকশাসহ সার্ভে রিপোর্ট ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর উপজেলা প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়।

তবে সার্ভে রিপোর্টের পরও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ছাড়াই খননকাজ শুরু হওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ দখলদারদের সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা ছাড়া এই খননকাজের সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হবে না।